
স্টাফ রিপোর্টার হাফিজুর রহমান হাবিব;
পঞ্চগড়ে তেতুলিয়া উপজেলার ১ নং বাংলাবান্দ্বা ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী সিপাইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে প্রায় চার দশকের শিক্ষকতা জীবনের অবসরে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রিয় শিক্ষাগুরুর বিদায় উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী শিক্ষক নুরুল ইসলামের দীর্ঘ কর্মজীবন, নিষ্ঠা, সততা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু পাঠদানই করেন না, বরং শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নুরুল ইসলাম সেই আদর্শ শিক্ষকদের একজন।
জানা যায়, ১৯৮৭ সাল থেকে নুরুল ইসলাম শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। প্রায় ৪০ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ পাঁচ সদস্যের পরিবারের কর্তা।
আব্দুল হামিদ ও আকলিমা খাতুনের সঞ্চালনায় এবং তহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুণ অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফারুক, ইউসুফ আলী, ফকিরপাড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক, সিপাইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাহারুল ইসলাম, আব্দুল হাকিম, রয়েল আলী প্রধান, রাসেদ সরকার ও অভিভাবক মনসুর আলীসহ অনেকে।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিদায়ী শিক্ষককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় অনেকেই তাঁর স্নেহ, শাসন, পরামর্শ ও শিক্ষাদানের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষক নুরুল ইসলামকে সম্মাননা স্মারক ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অবদান রাখা প্রয়াত সকল শিক্ষকদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়।
বিদায়ী শিক্ষক নুরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সঙ্গে কাটানো দীর্ঘ দিনের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই বিদ্যালয় আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষকতা করে আসার প্রতিটি মুহূর্ত আমি আজীবন মনে রাখবো।”
এ সময় তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা