রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
মাদকমুক্ত ও আধুনিক মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে বেলকুচির ভাঙ্গাবাড়ীতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম জুপিটারের গণসংযোগ; চা বিক্রি করে সংসার, দুই সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন থমকে যাওয়ার পথে; আত্রাইয়ে মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করলেন ইউএনও মনিরুজ্জামান; বদলগাছীতে সরকারি খাস পুকুর দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ ; কালকিনিতে মহিলা মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, আহত ৫; রিজভীসহ চার নেতাকে অভিনন্দন জানালেন সাইদুর রহমান লিটন; কবিতা -ছয় ঋতু ; কাউখালীতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালালেন সন্দেহভাজন; সংগ্রাম থেকে নেতৃত্বের শিখরে—বেগম খালেদা জিয়ার জীবন যেন এক রাজনৈতিক উপাখ্যান; মঠবাড়িয়ায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ সমাবেশ;

চা বিক্রি করে সংসার, দুই সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন থমকে যাওয়ার পথে;

  • Update Time : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:

এক হাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে সংসারের পুরো বোঝা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চা বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কষ্টে সংসার চালান পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি বিপ্লব বসাক। অভাব-অনটনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। তবে আর্থিক সংকটের কারণে দেশের দুটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া তাঁর দুই সন্তান প্রদুৎ বসাকী ইমন ও বন্যা বসাকীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখন থমকে যেতে বসেছে।

বিপ্লব বসাকের ছেলে প্রদুৎ বসাকী ইমন বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স’ বিভাগে পড়াশোনা করছেন। আর মেয়ে বন্যা বসাকী পড়ছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্রিমিনোলজি’ বিভাগে। মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের দুটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে তাঁদের শিক্ষাজীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের নিত্যদিনের খরচ মেটাতেই বিপ্লব বসাককে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে দুই সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও একাডেমিক ব্যয়, থাকা-খাওয়া, বইপত্র এবং যাতায়াতের খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে ক্রমেই অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে মেধাবী দুই ভাই-বোনের উচ্চশিক্ষার পথেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বাধা।

বিপ্লব বসাক বলেন, সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন তাঁর দীর্ঘদিনের। অভাবের সংসারেও নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে এসেছেন। কিন্তু বর্তমানে দুই সন্তানকে একসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়—এটাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, অবহেলিত ও দরিদ্র পরিবার থেকে দুই সন্তানের দেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া পুরো ভাঙ্গুড়া উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এই অদম্য মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও সহৃদয় মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সম্মিলিত সহযোগিতায় তাঁদের স্বপ্নপূরণের পথ সহজ করা সম্ভব।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রদুৎ ও বন্যার মতো মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানো এখন সমাজের দায়িত্ব। সামান্য সহযোগিতাই পারে দুই তরুণের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং তাঁদের ভবিষ্যৎকে আলোকিত করতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews