
মোঃ ফিরোজ আহমেদ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর আত্রাইয়ে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশঝাড়। একসময় উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও রাস্তার পাশে চোখে পড়ত বাঁশঝাড়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, বসতভিটা সম্প্রসারণ, বাঁশের ব্যবহার কমে যাওয়া এবং প্রয়োজনের তাগিদে বাঁশঝাড় কেটে ফেলায় এখন অনেক গ্রাম থেকেই হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ।
স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দশক আগেও গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাঁশের ব্যবহার ছিল ব্যাপক। ঘরের বেড়া, চালের খুঁটি, মাচা, ডালা, কুলা, ঝুড়ি, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জামসহ নানা কাজে বাঁশ ব্যবহার করা হতো। বিয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও বাঁশের তৈরি সামগ্রীর ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে প্লাস্টিক, লোহা ও আধুনিক বিভিন্ন সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা অনেকটাই কমেছে। পাশাপাশি অনেকেই বাঁশঝাড় কেটে সেখানে বাড়িঘর, পুকুর বা ফসলি জমি তৈরি করছেন। ফলে আগের মতো আর বাঁশঝাড় দেখা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে একটি বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় থাকাটা ছিল স্বাভাবিক বিষয়। বাঁশ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং ঝড়-বৃষ্টিতেও অনেকটা টিকে থাকে। গ্রামীণ পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বাঁশঝাড় পাখি ও বিভিন্ন ছোট প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবেও ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়রা মনে করেন, বাঁশের ব্যবহার ও চাহিদা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে বাঁশঝাড় লাগাতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বাঁশ চাষে মানুষকে উৎসাহিত করা গেলে আত্রাইয়ের হারিয়ে যেতে বসা বাঁশঝাড় আবারও ফিরে আসতে পারে।
মোঃ ফিরোজ আহমেদ
০১৭১০ ৯৬৭৫২২