
মোঃ আঃ কুদ্দুস খান, মঠবাড়ীয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খাল, বিল, নদী ও নালায় অবৈধ গড়া, চড়গড়া, বোডা, চায়না দুয়ারি ও বেহুন্দী জাল দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের দাবি, এসব অবৈধ জালের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং দেশীয় প্রজাতির মাছও বিলুপ্তির পথে।
অভিযোগ রয়েছে, বলেশ্বর নদীর তুষখালী থেকে সাংরাইল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে শত শত অবৈধ বাঁধা জাল বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাসিক অর্থের বিনিময়ে এসব জাল বসানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও আগাম তথ্য পেয়ে অনেক জেলে ওই দিন জাল সরিয়ে নেয় বা মাছ ধরা বন্ধ রাখে। ফলে অভিযানেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ তাদের।
কৃষকদের অভিযোগ, খাল-বিল ও নালার মুখ অবৈধ জালে আটকে দেওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বীজতলা ও আবাদি জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে অবাধে পোনা মাছ নিধনের কারণে দেশীয় মাছের উৎপাদনও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, “জনবল ও অর্থসংকটের কারণে সব এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।” তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করার কথাও জানান।
এদিকে জেলেদের জন্য সরকারি ভিজিএফ চাল বিতরণে মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন মৎস্যজীবী। এ নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে প্রকাশ্যেই অবৈধ জাল বিক্রি করা হলেও এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে অবৈধ জালের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং খাল-বিল ও নদী-নালার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।