
মোঃ নুরুজ্জামান খোকন কাউখালী(পিরোজপুর)
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কাউখালী সদর ইউনিয়নের এম.মতিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) স্কুল পর্যায়ের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের(ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক,শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য) অংশগ্রহণে বাল্যবিবাহ,যৌতুক, মাদক ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক এক ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
নাগরিক উদ্যোগ (Nagorik Uddyog) বাস্তবায়িত এবং Brot für die Welt-এর সহযোগিতায় পরিচালিত “কমিউনিটিভিত্তিক বিরোধ মীমাংসার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে জেন্ডার ন্যায্যতাভিত্তিক অভিগম্যতা বৃদ্ধি” প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো.আজম খান। সঞ্চালনা করেন নাগরিক উদ্যোগ,কাউখালীর প্রোগ্রাম অফিসার মো.মহসিন মিয়া।
বক্তারা বলেন,বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অপরাধ,যা একটি শিশুর শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। পরিবার,বিদ্যালয় ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা আরও বলেন,যৌতুক একটি অমানবিক ও দণ্ডনীয় অপরাধ। যৌতুকের কারণে পারিবারিক অশান্তি,নারী নির্যাতন,বিচ্ছেদ এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। তাই যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
মাদক প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়,একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংস করে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে খেলাধুলা,সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ে বক্তারা বলেন,নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ,সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি। পরিবারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মো.নুরুজ্জামান খোকন,বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো.মাহমুদ হোসেন, এম. শহিদুল আলম বাদল, আরজেএম সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল সুমা আক্তার এবং আরজেএমএফ সদস্য মো. সাইদুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হলে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা,আস্থা এবং জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।