
৯০ শতাংশ কাজ শেষ, মান নিয়ে প্রশ্ন; চূড়ান্ত বিলের আগে তদন্তের দাবি
মো. মাসুদ রানা, দেবিদ্বার (কুমিল্লা):
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ভানী-রাজামেহার সড়ক সংস্কারকাজের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজের মান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠলেও অভিযোগগুলো যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ কয়েকজন বাসিন্দা।
অভিযোগকারীদের দাবি, এরই মধ্যে সড়কটির প্রায় ৯০ শতাংশ সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। অথচ কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত পরিদর্শন ও বিল পরিশোধের আগে প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।
ভানী ও রাজামেহার ইউনিয়ন পাশাপাশি অবস্থিত। দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর সংস্কারকাজ নিয়ে স্থানীয়দের আগ্রহও রয়েছে। রাজামেহার ইউনিয়নের সরকারি ওয়েবসাইটেও ইউনিয়নটির সঙ্গে ভানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার যোগাযোগের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
‘অভিযোগের পরও কীভাবে ৯০ শতাংশ কাজ?’
দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অভিযোগ করে বলেন, সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই সড়কের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ উঠছিল। কিন্তু অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ এগিয়ে নিয়েছে বলে তাঁর দাবি।
তিনি বলেন, “কাজের মান নিয়ে যখন শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, তখন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। অথচ এখন প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর বিষয়টি চূড়ান্ত পরিদর্শনের পর্যায়ে এসেছে।”
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তারা সড়কটির চূড়ান্ত পরিদর্শনে আসেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তাঁর প্রশ্ন, কাজের মান নিয়ে যদি আগে থেকেই অভিযোগ থাকে, তাহলে অভিযোগ নিষ্পত্তি না করে কীভাবে কাজ এতদূর এগিয়ে গেল?
নকশা-প্রাক্কলন ও নির্মাণসামগ্রী যাচাইয়ের দাবি
অভিযোগের বিষয়ে তিনি প্রকল্পটির নকশা ও প্রাক্কলন, অনুমোদিত কাজের পরিমাণ, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, সড়কের পুরুত্ব ও বাস্তব অগ্রগতি, কাজের মাপজোক এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধের বিষয়গুলো পরীক্ষা করার দাবি জানান।
তাঁর মতে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়ন করা কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগে গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ত্রুটিপূর্ণ কাজ পুনরায় করারও দাবি জানান তিনি।
ঠিকাদারের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন
বিএনপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, সড়ক সংস্কারকাজের সঙ্গে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের এক আত্মীয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “কাজের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাবের কারণে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।”
তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত বিল নয়—স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন বলেন, সড়ক সংস্কারের উদ্দেশ্য হচ্ছে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমানো এবং একটি টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করা। কিন্তু কাজের মান ভালো না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের দাবি, চূড়ান্তভাবে কাজ গ্রহণ এবং বিল পরিশোধের আগে প্রকৌশলীদের মাধ্যমে সড়কের নির্মাণসামগ্রী ও কাজের মান পরীক্ষা করা হোক। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র প্রকাশ করে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়টিও যাচাই করা হোক।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকাশ করা হবে
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—সরকারি অর্থে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যেন শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার না হয়; বরং প্রকৌশলগত মানদণ্ড মেনে টেকসই ও জনবান্ধব সড়ক হিসেবে নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়।