সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
বেলকুচি ১নং সদর ইউনিয়ন উন্নয়নের রোল মডেল ও মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে চান গোলাম আজম; থানা থেকে দুই আ.লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন যুবশক্তি নেতা; শ্বশুর-শাশুড়ি-দেবরের যাবজ্জীবন, স্বামী খালাস; অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ: গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এক নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক; কবিতাঃ কবি শুকান্ত ভট্টাচাৰ্য ; দেবিদ্বারের সব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক পরিদর্শনের দাবি এমপি আবুল হাসনাতের; ভাঙ্গুড়া বাজারে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস এক দেশ এক QR’ সেবা উদ্বোধন; বেলকুচিতে উদাসীনতা: ময়লার স্তূপ ও জঙ্গলে পড়ে নষ্ট হচ্ছে জনগণের টাকায় কেনা ডিভাইডার; ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ,যুবক পুলিশ হেফাজতে; মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে দৌলতপুরের মেম্বার পদপ্রার্থী মো: রহিজ ব্যাপারি;

কুমিল্লা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে গোমতীর চরের কৃষি জমি;

  • Update Time : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ৭৮ বার পঠিত

মোঃ মাসুদ রানা, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;

উজানের পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি উঠেছে নদীর চরাঞ্চলে। এতে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি ও কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়ে সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সবজির গাছ ও চারা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেক কৃষকই অপরিপক্ক ফলন তুলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব ফলনের দাম ও বিক্রি নিয়েও শঙ্কায় আছেন তারা।
শুক্রবার সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। কৃষকরা কোমর সমান পানিতে নেমে যতটা সম্ভব ফসল তুলে আনার চেষ্টা করছেন। ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে অল্প অল্প করে পানির উচ্চতা বাড়ছে।
ভান্তি এলাকার কৃষক আবদুল হক জানান, “প্রায় ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আমি আগাম জাতের মূলা ও লাউ চাষ করেছিলাম। হঠাৎ গোমতীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আমার পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। দুইদিন জমি পানির নিচে থাকলেই কাদা চাপায় মারা যাবে চারাগুলো।”
আরেক কৃষক আবদুল জলিল বলেন, “আমার ডাঁটা শাক, পুঁইশাক ও চালকুমড়ার ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। আমার মতো ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও আশপাশের এলাকার অন্তত শতাধিক কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”
কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, “লাউ, চিচিঙ্গা, ডাঁটা শাক, চালকুমড়া, মূলাসহ বিভিন্ন সবজি অপরিপক্ব অবস্থায় তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছি। পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে যতটুকু সম্ভব ফসল উদ্ধার করে বিক্রি করে অন্তত কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে যা তুলেছি তাও বিক্রি হবে কিনা জানি না। এতে লাখ লাখ টাকার ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।”
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, “উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আমিও মাঠে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জরিপ শেষে কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, “বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ২ মিটার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। নদীতে পানি বাড়ছে। বেশ কিছু জায়গায় চরাঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এখনো পর্যন্ত গোমতীর পানি নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে কিনা তা বলা যাচ্ছে না, তবে আমরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা পর্যবেক্ষণ করছি।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews