মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
Welcome To Our Website...
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড: অহংকার নয়, পেশাগত দায়িত্বের সীমারেখা-সম্পাদক, দৈনিক বাংলার আলো;; হিন্দুদের বাড়িতে হুমকির অভিযোগ — রুহুল আমিন দুলাল; লালমনিরহাট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িবহর আটক, পরে ছেড়ে দেয় বিজিবি; নওগাঁতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত; আত্রাইয়ে বিএনপির বিশাল নির্বাচনী প্রচারণা ও পথসভা অনুষ্ঠিত; শাপলা কলি মার্কার নির্বাচনী শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত; নওগাঁতে শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে ইরি-বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা; মোংলা, রামপাল বাগেরহাট -৩ আশোনে মাঠে ৫ প্রার্থী তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আছে জামাত এবং বিএনপি; লালমনিরহাট-০২ আসনে যুব অধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতিসহ ২০ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান; নারী হেনস্তার প্রতিবাদে মোংলায় জামাতের বিক্ষো মিছিল ; কাউখালীতে যৌথবাহিনীর দুই দিনের অভিযানে ৮ মোটরসাইকেল জব্দ, জরিমানা ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা; বেলকুচিতে বিএনপির নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত; রাজাপুর উত্তর কাঠিপাড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত; নওগাঁ জেলায় যৌথ বাহিনীর ডমিনেন্ট পেট্রোল ও মহড়া অনুষ্ঠিত; আত্রাইয়ে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস পালিত র‌্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সচেতনতা কর্মসূচি; আত্রাইয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মশালা; হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ধানের শীষের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত ; সাপলেজা ইউনিয়নে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রাথমিক বিদ্যালয়; নওগাঁ-৬ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটের উত্তাপ;

শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো শিক্ষাক্যাডার অধ্যক্ষ বহাল তবিয়তে;

মো:আসাদুজ্জামান(স্টাফ রিপোর্টার):

ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী আওয়ামী দূর্নীতিবাজদের ইন্ধনে এবং ছত্রছায়ায় শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সরকারি শামসুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ হারুনুর রশিদ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক তার কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞাব বিভাগের প্রভাষক জনাব সাইফুল ইসলামকে যথারীতি দায়িত্ব পালন করতে না দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেছেন।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিদ্ধান্ত ও মাউশি অধিদপ্তরে তাগিদ পত্র এবং মহামান্য হাইকোর্টের রায় অমান্য করে এবং তাদের আদেশ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব পালন করতে না দিয়ে হয়রানি করা অধ্যক্ষের একান্তই স্বেচ্ছাচারিতা শামিল।
গত ২৮/০৬/২০১৬ ইং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ৩০/০৬ /২০১৬ ইং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে ১৯৯ টি কলেজ জাতীয়কণের লক্ষ্যে নিয়োগ, স্থাবর -অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরসহ গভর্নিংবডির কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।তার মধ্যে শামসুর রহমান কলেজ একটি।
কলেজ গভর্নিংবডির সাবেক সভাপতি শামসুর রহমান, তার ভাই সাবেক সদস্য আনিসুর রহমান এবং তার ছেলে প্রভাবশালী সদস্য জিয়াউর রহমান (আহাদ) যিনি ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট ডোনার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে একাধিকবার রাষ্ট্রীয় সফরসঙ্গী অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক (এরা প্রত্যেকে বে- গ্রুপের (কর্নধার) চেয়ারম্যান ও এমডির দায়িত্বে) তারা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দলীয় ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে বাবা,ভাই, ছেলে,ভাগ্নে দ্বারা পকেট কমিটি গঠন করে কলেজের সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ ও লুটপাটের আখড়ায় পরিনত করেন। ভুক্তভোগী প্রভাষক সাইফুল ইসলাম জানান কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩০/৬/২০১৬ ইং তারিখের মন্ত্রণালয়ের সেই প্রজ্ঞাপনকে না মেনে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এওয়াজ বিনিময়ের নামে নাটক সাজিয়ে ২৪/৮/২০১৬ ইং তারিখে ৩ টি দলিলের মাধ্যমে যাহা ২৪৫৬/২০১৬, ২৪৫৭ / ২০১৬ এবং ২৪৫৮/ ২০১৬ । যেখানে বহুতল আবাসিক ভবন, শিক্ষক আবাসিক কোয়াটার,ছাত্রী হোস্টেলসহ মোট ২৪৭ শতাংশ জমি বেআইনিভাবে তাদের ব্যক্তিগত নামে তৎকালীন অধ্যক্ষ মৌজে আলী হাওলাদারকে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা, ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে লিখে দিতে বাধ্য করেন। সেই সুযোগে অধ্যক্ষ মৌজে আলী হাওলাদারও নামে -বেনামে কলেজের ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিভিন্নভাবে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা আত্মসাৎ করেন। দূর্নীতি ও আত্নসাৎকৃত সম্পত্তির বাজার মূল্য প্রায় ২১ কোটি টাকা।আমি এখানকার স্থানীয় শিক্ষক ও একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করলে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়।তারই ধারাবাহিকতায় সরকারি বিধি বিধান না মেনে গভর্নিংবডি সরাসরি বে- আইনিভানে ০১/১১/২০১৬ ইং সাময়িক বরখাস্ত এবং ৩১/০৫/২০১৭ ইং চূড়ান্ত বরখাস্ত করেন।বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরেজমিনে তদন্ত করার নির্দেশনা দেন।কলেজটি সরেজমিনে তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তারা কলেজের দূর্নীতি, সম্পত্তি আত্মসাৎ ও বেআইনিভাবে আমাকে বরাখাস্তকরণের সত্যতা পান এবং তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেন।তদন্ত প্রতিবেদন, ও সকল তথ্য প্রমানাধি পর্যালোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১০/০৯/২০২৩ ইং পত্র ইস্যুর মাধ্যমে আমাকে চাকরিতে পূনর্বহালের জন্য তৎকালীন অধ্যক্ষ মহোদয়কে নির্দেশ প্রদান করেন। সেইমতে অধ্যক্ষ মহোদয় আমাকে
০৪/১০/২০২৩ ইং আমাকে পুনর্বহাল ও যোগদান করান।যোগদানের পর আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে থাকি এবং আমার বেতন ভাতাদি গ্রহন করি।আমি চাকরিতে পূনর্বহাল হওয়ায় তারা খুবই ক্ষিপ্ত। এই প্রতিষ্ঠানে আমার চাকরি করাটা তারা কোনভাবেই মেনে নিতে না পেরে নতুন করে বিভিন্ন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র শুরু করেন।তারই ধারাবাহিকতায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে, দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে কোন কারন ব্যতিরেকে ২৪/০৩/২০২৪ ইং মন্ত্রণালয় থেকে আমার পূনর্বহালের চিঠি বাতিল করান এবং ২৫/০৩/২০২৪ ইং কলেজের যোগদান পত্রটিও বাতিল করেন। এতে আমি সংক্ষুব্ধ হয়ে এই পত্র দুটিকে চ্যালেন্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে রীট করলে মহামান্য হাইকোর্ট তার ২৯/০৪/২০২৪ ইং তারিখের আদেশে ঐ দুটি পত্রকে বেআইনি ও অবৈধ উল্লেখ করে পত্র দুটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। বিধায় আমার আগের পূনর্বহাল ও যোগদান পত্রটি কার্যকর হয়ে যায়। এরপর কলেজ তথা রাষ্ট্র পক্ষ এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ তা না মন্জুর করে আগের আদেশ বহাল রাখেন ।কিন্তু অধ্যক্ষ মহোদয় আমাকে যোগদান না করিয়ে উল্টো হয়রানি করতে থাকেন।মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানানোর পর গত ৩০/০৪/২০২৫ ইং তারিখে পত্র ইস্যুর মাধ্যমে আমাকে যথারীতি দায়িত্ব পালন করতে দেয়ার জন্য অধ্যক্ষ মহোদয়কে নির্দেশনা প্রদান করেন।অধ্যক্ষ মহোদয় মন্ত্রনালয়ের সেই নির্দেশনা না মেনে উল্টো হয়রানি করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয় (কপি সংযুক্ত)।অবশেষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মাত্র ৫ দিনের সময়ের ভিতরে যোগদান করানোর জন্য গত ১৩/০৭/২০২৫ ইং অধ্যক্ষ মহোদয়কে পুনরায় নির্দেশনা প্রদান করেন । সেই নির্দেশনার আলোকে অধ্যক্ষ মহোদয় বরাবর যোগদানের জন্য গেলে তিনি বলেন এটাতো অনেক বড় চাকরি। তাই আমাকে খরচপাতি বাবদ ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে । অন্যথায় আমি যোগদান করাব না।এতে কেউ আমাকে কিছু করতে পারবে না। আমি কোন কিছু ভয় করি না।
প্রভাষক সাইফুল ইসলাম আরও জানান আত্মসাৎকৃত সরকারি সম্পত্তিগুলো তাদের নামে ২৪/০৮/২০১৬ ইং তারিখে লিখে নিলে বিষয়টা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয় এবং বিভিন্ন গনমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়। জনরোষানল থেকে বাঁচতে অবশেষে ২০১৯ সালের দিকে তাদের পারিবারিক ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত সফুরা বেগম মহিলা কলেজের নামে দান দেখানো হয়।সরকারি কলেজের সরকারি সম্পত্তি এভাবে পারিবারিক ব্যক্তিগত ট্রাস্টিতে দেয়া আরেকটি প্রতারনা।পারিবারিক ট্রাষ্টি আজকে আছে কালকে নাও থাকতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কলেজের এই সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য বর্তমান অধ্যক্ষ মহোদয়কে একাধিক চিঠি ও তাগিদ পত্র ইস্যু করেন। অধ্যক্ষ মহোদয় ফ্যাসিষ্ট দুর্নীতিবাজদের থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের সাথে লিয়াজো করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার না করে তাদের দোসর, আস্থাভাজন ও রক্ষক হয়ে ভক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেছেন।এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে অধ্যক্ষসহ ফ্যাসিষ্ট দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়াসহ সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার জরুরি উল্লেখ্য যে সার্বিক বিষয় সম্পর্কে জানতে এবং মতামত নেয়ার জন্য অধ্যক্ষ অধ্যাপক হারুন- অর- রশীদকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে নারাজ বলে ফোন কেটে দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Copyright © Frilix Group
প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার