শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
খুন-চুরি-ছিনতাইয়ে অশান্ত কুমিল্লা, ৮ মাসে ৯৩ হত্যাকাণ্ড; সাঈদীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পিরোজপুরে দোয়া ও মোনাজাত; রাজৈরে মানবপাচার চক্রের ‘গডফাদার’ এনামুল গ্রেপ্তার; প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আ.লীগ নেতা রাসেল; ভাঙ্গুড়ায় জান্নাত ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত; খুকনীর গণমানুষের আশা-ভরসা: কারানির্যাতিত রাজপথের লড়াকু সৈনিক মো: লিয়াকত হোসেন লাবু; অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার মোঃ সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক, চোরাচালান ও চেক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ; কবিতা: চমৎকার এক চমক; নওগাঁর আত্রাইয়ে পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত কৃষকরা; ভাঙ্গুড়ায় ১৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, নগদ ৬৯ হাজার টাকা উদ্ধার;

খুন-চুরি-ছিনতাইয়ে অশান্ত কুমিল্লা, ৮ মাসে ৯৩ হত্যাকাণ্ড;

  • Update Time : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত

চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদককারবারে উদ্বেগ; নগরীতে একের পর এক মোটরসাইকেল-সাইকেল চুরি

মোঃ মাসুদ রানা;
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;
কুমিল্লায় একের পর এক খুন, চুরি, ডাকাতি, মাদককারবার, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইয়ের দৌরাত্ম্যে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ৯৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ৯টি, জানুয়ারিতে ১৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ১২টি, মার্চে ৯টি, এপ্রিলে ১৬টি, মে মাসে ৭টি, জুনে ১০টি এবং জুলাইয়ে ১০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২২টি।
এ ছাড়া গত ছয় মাসে জেলায় ৩৩৩টি চুরি, ৩৫টি ডাকাতি ও ১৪টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধের এ চিত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এর আগে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সাত মাসে ৮৩টি হত্যাকাণ্ড, ৩০২টি চুরি ও ৩৩টি ডাকাতির তথ্য উঠে এসেছিল।
নগরীতে চুরি-ছিনতাই নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক
জেলার সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতির পাশাপাশি কুমিল্লা নগরীতেও চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। দিনের পাশাপাশি রাতের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় মানুষের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে অনেকে মনে করছেন।
সর্বশেষ গত ১৩ আগস্ট বিকেলে নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়া এলাকায় মরহুম মোখলেসুর রহমানের ছেলের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই রাতে নগরীর কালিয়াজুরী এলাকায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বারাতের ছেলের একটি সাইকেলও চুরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া পাক্কা মাথা সংলগ্ন কোড়েরপাড় এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে রাতের বেলায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লায় মোটরসাইকেল চোর চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানও হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় ডিবি পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকলেও তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্কুল-কলেজকেন্দ্রিক এলাকাতেও কিশোর গ্যাংয়ের অবস্থান রয়েছে বলে দাবি করেছেন অনেকে।
মাদককে কেন্দ্র করে অপরাধের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জেলা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের মে ও জুন—এই দুই মাসে কুমিল্লার ১৮টি থানায় বিভিন্ন অপরাধে ১ হাজার ১৮৯টি মামলা হয়েছে; এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৬৬টি মামলা ছিল।
আইনি জটিলতার কথাও বলছেন আইনজীবীরা
কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বয়স নির্ধারণ নিয়ে অনেক সময় আইনি জটিলতা দেখা দেয়। স্কুলের সার্টিফিকেটে প্রকৃত বয়সের পরিবর্তে বেশি বয়স দেখানো কিংবা বয়স গোপন করার প্রবণতাও রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে গত মাসে ১৯২ জন ছিনতাইকারীকে আটকের তথ্যও জানানো হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান পরিচালনার পরও চুরি-ছিনতাই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দিনের পর দিন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদেরও কিশোরদের বিপথগামিতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি মাদক, চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় অপরাধের ধারাবাহিক ঘটনা এবং নগরীতে চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews