
মোঃ নুরুজ্জামান খোকন,
(পিরোজপুর)
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষায় বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভুল সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতায় ৩২ জন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে,রোববার (১০মে) সকাল ৯টায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষা ‘১নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রে গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে নির্ধারিত সেটের প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে সরবরাহ ও যাচাই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কেন্দ্র সচিব চরম গাফিলতির পরিচয় দিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৩ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করেন। পুরো পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়ে।
পরীক্ষা শেষে অন্য কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখার সময় পরীক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন,তাদের প্রশ্নপত্রের সেট আলাদা ছিল। এরপর থেকেই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার ও হুরায়রা আক্তার বলেন, “পরীক্ষা শেষে অন্যদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে বুঝতে পারি আমাদের সেট ভিন্ন ছিল। এরপর থেকেই আতঙ্কে আছি। ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে কি না,সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।”
এক অভিভাবক মোঃ নান্না মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বোর্ডের নির্ধারিত সেট বাদ দিয়ে অন্য সেটে পরীক্ষা নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে অভিভাবকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, “বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ১নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভুলবশত ৩ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “ঘটনার পরপরই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে, সেই প্রশ্ন অনুযায়ীই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” বর্তমানে উপরোক্ত বিষয়টি কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস কে তদন্তের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জি.এম.শহীদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যেহেতু পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে,তাই ওই প্রশ্নপত্র অনুযায়ী খাতা মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”