
পিরোজপুর প্রতিনিধি: আব্দুল হান্নান শেখ ;
দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়িয়ে, এলাকার মানুষকে ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে যিনি সমাজের নৈতিক ভিত মজবুত রাখেন, সেই মসজিদের ইমামের জীবনই চলছে চরম কষ্টে। অধিকাংশ মসজিদে ইমামদের মাসিক বেতন এতটাই কম যে তা দিয়ে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পিরোজপুরের এক গ্রামের মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল কাদের বলেন, “মসজিদ কমিটি মাসে মাত্র ৪ হাজার টাকা দেয়। বাজারের যা দাম, এই টাকায় চাল-ডাল, বাচ্চার স্কুলের খরচ, ওষুধ—কিছুই কুলায় না। বাধ্য হয়ে সকালে-বিকালে টিউশনি করি, তবুও মাস শেষে ধার করতে হয়।শুধু তিনিই নন, দেশের গ্রাম-গঞ্জের শত শত ইমামের চিত্র প্রায় একই। শহরের তুলনায় গ্রামে বেতন আরও কম। অথচ ঈদ, রমজান, জানাজা, বিয়ের দোয়া—সব অনুষ্ঠানে মানুষ তাদেরই ডাকে।স্থানীয় মুসল্লিরা বলছেন, ইমাম সমাজের ধর্মীয় অভিভাবক। তাদের আর্থিক কষ্ট দূর না করলে দ্বীনি খেদমতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। তারা মসজিদ কমিটি ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি বেতনভুক্ত মসজিদ ছাড়া বাকি মসজিদগুলোর ইমামের বেতন নির্ধারণ করে স্থানীয় কমিটি। এজন্য অনেক জায়গায় বৈষম্য তৈরি হয় সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যে সমাজ তার ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে পারে না, সেই সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ঠেকানো কঠিন। ইমামদের জন্য একটি ন্যূনতম সম্মানজনক ভাতা ও সামাজিক স্বীকৃতি জরুরি হয়ে পড়েছে।