বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
বিশেষ জেলা প্রতিনিধি; পিরোজপুর;
“শাক দিয়ে মাছ ডাকা” প্রবাদটি যেন আজ বাস্তবে প্রমাণিত। গত ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া উপজেলার তুষখালী বলেশ্বর নদীতে উপজেলা মৎস্য অফিস, কোস্ট গার্ডের সহায়তায় অবৈধ বাধা ও বেহুন্দী জালের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে নদী থেকে দুটি অবৈধ বাধা জাল ও দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের অনুমতিক্রমে জব্দকৃত জাল দুটি ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় এবং নৌকা দুটি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জব্দ করা হয়।
উল্লেখ্য, তুষখালী থেকে হাংরাইল পর্যন্ত নদী এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক অবৈধ বাধা, বেহুন্দী ও চড়গড়া জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে—চারটি ইউনিয়নের প্রভাবশালী প্রায় ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারা মৎস্য অফিসের নাম ব্যবহার করে জালপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে এবং অভিযানের আগাম তথ্য সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেয়।
মৎস্য অফিস বিষয়টি অনুধাবন করে গোপনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলে সিন্ডিকেটের অবৈধ ব্যবসায় ক্ষতি হয়। এর জের ধরেই নিজেদের দায় অন্যের ওপর চাপাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে লিপ্ত হয় একটি মহল।
এরই ধারাবাহিকতায় ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে দৈনিক খবর পত্রিকায় মঠবাড়ীয়া উপজেলা মৎস্য অফিসের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মঠবাড়ীয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, জব্দকৃত নৌকা ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য মৎস্য অফিসের ওপর মঠবাড়ীয়ার রিয়াজ উদ্দীন, গন অধিকার পরিষদ পিরোজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি সহিদুল ইসলাম ও একটি মৎস্য সমিতির পক্ষ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সকল অভিযোগের প্রমাণাদি, তথ্য ও ভিডিও চিত্র সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।