মোঃ নুরুজ্জামান খোকন,
(পিরোজপুর)
আসন্ন ২০২৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় বিএনপির দলীয় সমর্থন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান,সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মোট ১৪৮ জন তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) উপজেলা বিএনপির কাছে জমা দিয়েছেন।
কাউখালী উপজেলা বিএনপির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পিরোজপুর-২(কাউখালী-ভান্ডারিয়া-নেছারাবাদ) আসনের সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন এবং উপজেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন ও জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
গত ২০অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আগ্রহী প্রার্থীরা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত হোসেন ও রফিকুল ইসলাম রফির কাছে তাঁদের আবেদনপত্র ও রাজনৈতিক- সামাজিক জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান,পাঁচটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৬ জন,সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৪ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১০৮ জনসহ সর্বমোট ১৪৮ জন দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী তাঁদের আবেদন ও বায়োডাটা জমা দিয়েছেন।
ইউনিয়নভিত্তিক চেয়ারম্যান পদে আবেদনকারীর সংখ্যা হলো,১নম্বর সয়না-রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ৩ জন, ২নম্বর আমরাজুড়ী ইউনিয়নে ৬জন, ৩ নম্বর সদর ইউনিয়নে ৪ জন, ৪ নম্বর চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নে ১১ জন এবং ৫ নম্বর শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে ২জন।
রফিকুল ইসলাম আরও জানান,জমা পড়া আবেদন ও জীবনবৃত্তান্তগুলো সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমনের কাছে পাঠানো হবে। তাঁর নির্দেশনা ও পরামর্শক্রমে উপজেলা বিএনপি পরবর্তী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এদিকে,বায়োডাটা জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে কাউখালী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণায় দলীয় কার্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই প্রার্থীদের এমন তৎপরতায় উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে আগাম নির্বাচনী উৎসবের আবহ বিরাজ করছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, একটি সুন্দর,সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমনের দিকনির্দেশনায় তৃণমূলের ত্যাগী,পরীক্ষিত, যোগ্য ও জনসম্পৃক্ত নেতাকর্মীরা দলীয় মূল্যায়ন পাবেন। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক চর্চা,জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে,দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ কাউখালীর রাজনীতিতে নতুন নির্বাচনী মাত্রা যোগ করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা দলীয় সমর্থন পান,তা নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।