সোহরাওয়ার্দী হোসেন ;
স্টাফ রিপোর্টার ;
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে ১০ বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়োগের প্রস্তাব
গণঅধিকার পরিষদের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাবেক ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পরিচিতি, মতবিনিময় এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় সংগঠনের নতুন পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটির নেতৃবৃন্দের পরিচয় তুলে ধরা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মুঞ্জর মোর্শেদ মামুন, সিনিয়র সহসভাপতি ইমরান খান, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর ইসলাম জাহিদ এবং দপ্তর সম্পাদক রুবেল হোসেন।
সভায় নবনিযুক্ত নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সাবেক নেতৃত্ব, তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠক এবং বিভিন্ন শ্রমিক সেক্টরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সাংগঠনিক পরিচয় নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চাকরির নিশ্চয়তা, সাপ্তাহিক ছুটি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসাসেবা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে অটোরিকশা, অটোটেম্পো, মিশুক, বেবিট্যাক্সি, পরিবহন, নির্মাণ, পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকরা নানা ধরনের আর্থিক ও পেশাগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব দেখা যায় এবং অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনার সময় প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পান না। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করা হয়।
সভায় সংগঠনের কার্যক্রম দ্রুত বেগবান করার লক্ষ্যে দেশের ১০টি বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়োগ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শক্তিশালী নির্বাহী কমিটি গঠনের বিষয়ে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মতামত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রমিক সেক্টরে পৃথক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের বিস্তার ঘটানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ সাবেক ও বর্তমান সকল নেতাকর্মীকে দলীয় মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদকে শ্রমজীবী মানুষের আস্থা ও অধিকার আদায়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।
শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভা শেষ হয়।