
মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা জুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এর মধ্যেই সাধারণ মানুষের মন জয় করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন তাড়াশ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, গণঅধিকার পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলার কার্যনির্বাহী সদস্য এবং পেশায় একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজমিস্ত্রী মো: নাছির উদ্দিন মৃধা। “দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে বাংলাদেশ” এবং “জনতার অধিকার আমাদের অঙ্গীকার”—এই মূল মন্ত্রকে ধারণ করে তিনি সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অদম্য সৎসাহস, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতার কারণে দল, মত, ধর্ম নির্বিশেষে তাড়াশের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।
দল-মত নির্বিশেষে সবার ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা
একজন সাধারণ রাজমিস্ত্রীর সন্তান ও নিজে রাজমিস্ত্রীর পেশার সাথে যুক্ত থেকে মানুষের অধিকারের কথা বলায় নাছির উদ্দিন মৃধাকে আপন করে নিয়েছেন তাড়াশের আপামর জনসাধারণ। কোনো ভেদাভেদ বা দলীয় সংকীর্ণতা না রেখে তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ান। সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে তাঁর এই নিরলস উপস্থিতি তাকে আজ দলীয় গণ্ডি পেরিয়ে তাড়াশের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার পাত্রে পরিণত করেছে।
এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়ন ভাবনা
তাড়াশ উপজেলার সামগ্রিক অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে মো: নাছির উদ্দিন মৃধার। নির্বাচিত হলে অবহেলিত গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলোর পাকাকরণ ও সংস্কারের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এছাড়া এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থানগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি
তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই তরুণ নেতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাড়াশের মাটি থেকে মাদক ও জুয়ার মতো সামাজিক অপরাধ চিরতরে নির্মূল করতে যুবসমাজ ও প্রশাসনকে সাথে নিয়ে কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যুবসমাজকে বিপথগামী হতে না দিয়ে খেলাধুলা ও গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
কৃষকদের নিয়ে পরিকল্পনা
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই নীতিতে বিশ্বাসী মো: নাছির উদ্দিন মৃধা তাড়াশের কৃষকদের কল্যাণে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। সার, বীজ ও সেচ সুবিধা কৃষকদের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছে দেওয়া, নায্যমূল্যে ফসল বিক্রির ব্যবস্থা করা এবং কৃষকদের যে কোনো সংকটে পাশে দাঁড়ানোর জোরালো পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নত করতে তিনি বিশেষ প্রণোদনা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সোচ্চার থাকবেন।
যুবসমাজকে নিয়ে ভাবনা
আগামীর নেতৃত্ব গঠনে যুবসমাজকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন নাছির উদ্দিন মৃধা। বেকারত্ব দূরীকরণ, যুবকদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে যুবসমাজকে দেশের সম্পদে রূপান্তর করতে চান তিনি। মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে যুবকদের সঠিক পথে পরিচালনা করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে তাঁর।
ভ্যানচালক, রিকশাচালক, তাঁতি ও বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার
তাড়াশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প এবং খেটে খাওয়া ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষের নায্য অধিকার আদায় ও সুরক্ষায় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চান তিনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে শ্রমজীবী মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে তাদের ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান তিনি।
জনগণের অনুভূতি:
এলাকার সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষের মুখে এখন একটাই কথা। সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের অনুভূতিগুলো উঠে এসেছে:
কৃষক ও শ্রমিক আব্দুল বারিক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন:
”আমাদের এই তাড়াশে কত নেতাই তো এল-গেল, কিন্তু গরিবের কষ্ট কে বুঝছে? নাছির ভাই আমাদেরই একজন মানুষ। তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজ করে ঘাম ঝরিয়ে খান, তাই আমাদের মাটির মানুষের মনের ভাষা তিনি বোঝেন। মাঠে-ঘাটে, রোদ-বৃষ্টিতে তিনি যেভাবে আমাদের খোঁজখবর নেন, তাতে আমরা বিশ্বাস করি—তিনি জয়ী হলে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।”
বয়স্ক মহিলা আসমা বেগম দোয়া করে বলেন:
”বাবা নাছির খুব ভালো মনের মানুষ। মুখে কোনো অহংকার নাই। গরিবের দুখ দেখলে তার চোখ দিয়ে পানি আসে। এলাকার মুরুব্বিদের সে মায়ের মতো সম্মান করে। আমরা মায়েরা হাত তুলে তার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে মানুষের সেবা করার সুযোগ দান করেন।”
প্রার্থীর নিজস্ব বক্তব্য:
ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: নাছির উদ্দিন মৃধা তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন:
”আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতি করি। সাধারণ মানুষের ঘামঝরা কষ্টের সাথে আমার নিজের জীবন ও সংগ্রামের মিল রয়েছে। তাড়াশ উপজেলার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসার, কবরস্থান সংস্কার এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক উপজেলা গড়ে তুলতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দল-মত নির্বিশেষে তাড়াশের সর্বস্তরের ভাই-বোন ও মুরুব্বিদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আপনারা সুযোগ দিলে আমি আমার জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আপনাদের সেবা করে যাব।”