মোঃ নুরুজ্জামান খোকন
(পিরোজপুর)
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কেউন্দিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কৈশোরকালীন পুষ্টি,স্বাস্থ্য সচেতনতা ও কিশোর- কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশবিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১নভেম্বর বেলা ১২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক চন্দ্র হালদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা.মো.মতিউর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা.মো.নাহিদ হাসান শাওন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) শাহ্ মুহাম্মদ মামুন মোরশেদ, সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) এস.এম.সাইফুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো.ইদ্রিস আলী আযিযী,কাউখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান, রিজিওনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার (অ্যাডোলেসেন্স প্রোগ্রাম) সোয়েতা উপাধ্যায়,নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার শিরিন আফরোজ এবং জেলা কো-অর্ডিনেটর নুসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ।
আলোচনা সভায় ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর- কিশোরীদের কৈশোরকালীন পুষ্টি,রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বক্তারা জানান,কিশোর- কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতি বৃহস্পতিবার আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ানোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি পুষ্টি শিক্ষা,হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সম্পর্কে সচেতনতা এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার শিরিন আফরোজ তাঁর বক্তব্যে বলেন,কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টি উন্নয়ন ও সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য এ ধরনের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ১০টি জেলায় এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি দেশীয় মৌসুমি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মাদক থেকে দূরে থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। এ সময় পুষ্টিবিষয়ক ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সুবিধাভোগী কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।
প্রধান অতিথি পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা.মো.মতিউর রহমান বলেন,কৈশোরকাল মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পুষ্টির বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ ব্যাহত হতে পারে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভায় কিশোর- কিশোরী ক্লাবের সদস্যদের ভূমিকা,পুষ্টিবিষয়ক সবুজ বইয়ের নির্দেশনা এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে পুষ্টি শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক,শিক্ষার্থী, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।