আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি “পুকুর থেকে উদ্ধার নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, এ নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ৫ জন”
মোঃ নুরুজ্জামান খোকন;
(পিরোজপুর)
পিরোজপুরের কাউখালীতে আলোচিত জেসমিন বেগম (৫০) হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে কাউখালী থানা পুলিশ। গতকাল ৩০ অক্টোবর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ওসমান আলী ও মোহাম্মদ আলী। পরে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৬৪ ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাউখালী থানার মামলা নম্বর-২,তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০-এর ৯(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ মামলায় ইতিপূর্বে এজাহারনামীয় ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মাহফুজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তিনিও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী জবানবন্দি দেন।
সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান আলী ও মোহাম্মদ আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পর ভিকটিম জেসমিন বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী,আসামিরা মোবাইল ফোনটি নিহতের পুকুরে ফেলে রেখেছিল। পরে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির উপস্থিতিতে স্থানীয় ডুবুরি দিয়ে পুকুর থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে এ হত্যা মামলায় মোট পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মামলার পূর্বাপর ঘটনা:
উল্লেখ্য,গত ৩ অক্টোবর রাত ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে ৪ অক্টোবর সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় কাউখালী উপজেলার ৫ নম্বর শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালকাঠী গ্রামের নিজ বাড়িতে জেসমিন বেগমকে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
৪ অক্টোবর সকালে নিহতের বাড়ির কেয়ারটেকার তাঁর স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন বাড়িতে গিয়ে সামনের কক্ষের খাটের ওপর জেসমিন বেগমের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে কাকন মনি বাদী হয়ে কাউখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. মানিক হাওলাদার (৫০) ও মো. আবুল বাসার ফরিদ (৫০)-এর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
এর আগে মামলার এজাহারভুক্ত ১নম্বর আসামি ও নিহতের কথিত দ্বিতীয় স্বামী মো. মানিক হাওলাদারকে মাদারীপুর থেকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বরিশাল (SRB-8) গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে নিয়ে কাউখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
মামলার এজাহারে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ, হত্যার হুমকি,ধর্ষণ বা গণধর্ষণের পর হত্যার আশঙ্কা এবং স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ প্রাসঙ্গিক আলামতের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে সর্বশেষ দুই আসামি গ্রেপ্তার এবং নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।