মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
মোঃ আঃ হান্নান, (বরিশাল ব্যুরো প্রধান)
বরিশাল নগরীর রাস্তায়, মসজিদে, বাসায় কোনো জায়গায় স্বস্তি নেই মশার জন্য। বিগত দিনগুলো থেকে বর্তমানে মারাত্মক হয়েছে মশা। নগরবাসীর অভিযোগ- বাসা, অফিস, মসজিদ, মার্কেট এমনকি পরিবহণেও মশা থেকে নিস্তার মিলছে না। রাতে-দিনে সমানতালে কামড়াচ্ছে মশা। এক কথায় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বরিশাল নগরবাসী। বিশেষ করে খাল ও নালা-নর্দমার আশপাশে থাকা বাসা-বাড়ির মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে মশা। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে দিনের বেলায়ও মশারির ভেতর আশ্রয় নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী বলছেন, মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশনের তৎপরতা খুবই কম। তবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দাবি, মশা নিধনে কাজ করছেন তারা। মশা নিধনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
মশা থেকে রক্ষা পেতে বাড়তি খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। একেকটি পরিবারের মাসে মশার কয়েল ও বিভিন্ন স্প্রে কিনতে ৩০০ থেকে হাজার টাকার মত ব্যয় করতে হচ্ছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে অনেকের সঙ্গে কথা বলে।
বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, নগরীর ৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় মশা নিধনের জন্য নগর ভবনে আছে মাত্র ১২টি ফগার মেশিন ও কিছু হ্যান্ড স্প্রে। এর মধ্যে আবার একটি ফগার মেশিন অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নগরীর প্রায় দেড়শ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা ড্রেন ও ৩০০ কিলোমিটারের মতো রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশক নিধনে দৈনিক মজুরিভিত্তিক প্রায় ৯০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ৩০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর কার্যালয়ে সংযুক্ত। তাদের অনেকেই দায়িত্ব পালনে আন্তরিক নন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ মশার হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। জেলার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, ‘সামনে বর্ষা, মশা আরও বাড়বে। এখই প্রতিরোধ করা উচিত। তা না হলে এবার গত বছরের চেয়ে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এ ছাড়া মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সবাইকে মশারি টানিয়ে ঘুমানোসহ প্রতিরোদের ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দাবি, মশা নিধনে কাজ করছেন তারা। আগামী তিন মাসের মধ্যে মশার উপদ্রব কমে যাবে বলে জানান সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা।