
মোঃ মাসুদ রানা ;কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার বিশ্বখ্যাত রসমালাই এখন প্রতারণার ফাঁদ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই ধার জুড়ে গড়ে উঠেছে নকল রসমালাইয়ের দোকানের ছড়াছড়ি। আসল স্বাদের নাম ভাঙিয়ে ভোক্তাদের সঙ্গে চলছে প্রকাশ্য ধোঁকাবাজি।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের মাত্র ১০৩ কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে প্রায় ৭টি ভুয়া রসমালাইয়ের দোকান। ‘আদি মাতৃভান্ডার’, ‘নিউ মাতৃভান্ডার’, ‘প্রসিদ্ধ মাতৃভান্ডার’ – এমন নানা নামে আলেখারচর এলাকার ২ কিলোমিটারের মধ্যেই গড়ে উঠেছে ডজনখানেক প্রতিষ্ঠান। কম দামে বিক্রি হলেও এসব রসমালাইয়ের মান নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই।
শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কই নয়, কুমিল্লা-সিলেট ও কুমিল্লা-চাঁদপুর-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য নকল দোকান। প্রতিদিন শত শত যাত্রী প্রতারিত হয়ে ফিরছেন।
১৯৩০ সালে নগরীর মনোহরপুরের ঘোষ সম্প্রদায়ের হাত ধরে রসমালাইয়ের যাত্রা শুরু। ‘মাতৃভান্ডার’ ছিল প্রথম দোকান। পরে মিষ্টি ভান্ডার, ভগবতী পেড়া ভান্ডার ও শীতল ভান্ডার এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেয়। বঙ্গভবন থেকে শুরু করে বিদেশি অতিথি আপ্যায়ন – সবখানেই ছিল কুমিল্লার রসমালাইয়ের কদর। পণ্যটি জিআই বা ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
বর্তমানে মনোহরপুরের মাতৃভান্ডার, শীতল ভান্ডার, ভগবতী ভান্ডার এবং মুরাদনগরের যাত্রাপুর, দাউদকান্দির গৌরীপুরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখনও মান ধরে রেখেছে। তবে বাজারের বেশিরভাগ দোকানই নকল।
ঢাকা থেকে ফেনীগামী যাত্রী ইকবাল বাহার বলেন, “কুমিল্লার উপর দিয়ে গেলে রসমালাই কিনতে মন চায়। কিন্তু মহাসড়কের পাশে আসল স্বাদ পাওয়া যায় না। আসল-নকলের পার্থক্য আকাশ-পাতাল।”
মাতৃভান্ডারের ব্যবস্থাপক তমাল সাহা জানান, “আমরা আজও পুরোনো ঐতিহ্য ও সীমিত উৎপাদনের মাধ্যমে মান বজায় রাখছি। বাজারে আমাদের নামে বিক্রি হওয়া রসমালাইয়ের অধিকাংশই নকল। এতে আমাদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।”
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “রসমালাইয়ের গুণগত মান রক্ষা ও নকল পণ্য বন্ধে আমরা কঠোর। নকল উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”