
মোঃ মাসুদ রানা, জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা ;
শিক্ষার পবিত্রতা ও পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার গুরুদায়িত্ব যাদের কাঁধে, সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই উঠেছে অমানবিক ও ভয়াবহ এক অনিয়মের অভিযোগ। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের মতো স্পর্শকাতর কাজে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ব্যবহার করেছেন নিজের বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে। এমন ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
[ভাইরাল ভিডিওর বয়ান ও পরিস্থিতি]
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বেঞ্চের ওপর এসএসসি পরীক্ষার খাতার স্তূপ। আর তার পাশেই বসে নির্দ্বিধায় খাতা মূল্যায়ন করছেন দশম শ্রেণির ছাত্র মো. মেহেদী। তার আচরণে মনে হচ্ছে, এটি তার জন্য খুব স্বাভাবিক একটি কাজ। ভিডিওটির সত্যতা ও খাতা মূল্যায়নের এই দৃশ্য জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন—একজন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মেধা দিয়ে যেখানে নিজের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, সেখানে সে কীভাবে এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে? আর প্রধান শিক্ষক মো. বাছু মিয়া কীভাবে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করার সাহস পেলেন?
[শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা]
পরীক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এসএসসি পরীক্ষা। এই খাতা মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই তাদের উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের পথ নির্ধারিত হয়। যেখানে খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদেরও কঠোর নিয়ম মানতে হয়, সেখানে একজন শিক্ষার্থী দিয়ে এই কাজ করানোয় খাতাগুলোর সঠিক মূল্যায়ন হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে অনেক যোগ্য শিক্ষার্থী সঠিক মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারে, যা তাদের মেধার ওপর চরম অবিচার।
[আইনি ব্যবস্থা ও এলাকাবাসীর দাবি]
এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাছু মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে অনিয়ম করে আসছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। গত ২৩ জুন এলাকাবাসীর পক্ষে শরিফুল ইসলাম ও আলী আহমেদ পার্থ খান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তাতে জড়িতদের দ্রুত বহিষ্কার এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ বিষয়ে বলেন, “আমরা ভিডিওটি দেখেছি এবং অভিযোগপত্র পেয়েছি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছি। তদন্তের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনা যেন ধামাচাপা না পড়ে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ আরও অবনতি হবে।