
মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ৪নং দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়া। সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তরুণ ও উদীয়মান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জাতীয়তাবাদী অনলাইন সেল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. আবুল কালাম আজাদ। আসন্ন নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে এলাকার কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের প্রাণের কথা শুনছেন এবং তাদের অধিকার আদায়ের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের দুর্ভোগ ও প্রত্যাশা
ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ এবার একজন সৎ, যোগ্য ও কর্মীবান্ধব নেতাকে নেতৃত্বে দেখতে চান। মাঠপর্যায়ের ভোটারদের সাথে কথা বলে তাদের বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও প্রত্যাশার চিত্র উঠে এসেছে:
কৃষক আব্দুল সোবহান আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমরা সারাজীবন রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলাই, অথচ সার-বীজ কেনার সময় নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হই। আজাদ ভাই একজন শিক্ষিত মানুষ, তিনি আমাদের সুসময়ের বন্ধু হবেন এবং কৃষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে সঠিক অধিকার ফিরিয়ে দেবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।”
বয়োবৃদ্ধ জোসনা বেগম বলেন, “আমাদের মতো বয়স্ক ও গরিব মানুষগুলোর খোঁজ কেউ রাখে না। বয়স্ক ভাতা বা সরকারি সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। আমরা এমন একজন চেয়ারম্যান চাই, যিনি কোনো বৈষম্য ছাড়াই গরিবের দুয়ারে এসে খোঁজ নেবেন। কালাম ভাইয়ের মাঝে আমরা সেই আস্থার জায়গা দেখতে পাচ্ছি।”
ভ্যানচালক আসলাম বলেন, “সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই দায়। ভাঙা রাস্তাঘাটে ভ্যান চালাতে গিয়ে আমাদের কত কষ্ট হয় তা কেউ বোঝে না। যুবসমাজ ও শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে কালাম ভাই যদি নির্বাচিত হন, তবে আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে এবং আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।”
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: একটি নিরাপদ দৌলতপুর গড়ার প্রত্যয়
বর্তমান তরুণ সমাজের ধ্বংসের মূল কারণ মাদক—এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে মো. আবুল কালাম আজাদ তার নির্বাচনী প্রচারে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
”আমাদের তরুণ প্রজন্ম আজ মাদকের ভয়াল গ্রাসে ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে না পারলে এলাকার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর দৌলতপুর ইউনিয়নকে সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব। মাদকের সাথে কোনো আপোস করা হবে না।”
তার এই আপসহীন মনোভাব ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা সাধারণ অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসित হয়েছে।
সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব
মো. আবুল কালাম আজাদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৮৫-৮৬ এবং ১৯৮৭-৮৮ মেয়াদে কাজিপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি এবং বেলকুচি ছাত্রদলের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৎকালীন এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সম্মিলিত ছাত্র ঐক্য পরিষদের কাজিপুর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ঢাকার রাজপথে শহীদ জেহাদের মিছিলে এবং শহীদ নূর হোসেনের মিছিলে জলকামানের তোপে পড়ার মতো রাজপথের সংগ্রামী অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী অনলাইন সেলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার রাজনৈতিক জীবনে অভিভাবক হিসেবে পাশে ছিলেন মরহুম অধ্যাপক রহমতুল্লাহ আইয়ুব, সিরাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নূরে আলম হেলাল, মরহুম মির্জা মুরাদুজ্জামান এবং মরহুম গোলাম মোস্তফা চেয়ারম্যান।
ভোটারদের ভাবনা
স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, দৌলতপুর ইউনিয়নের অবহেলিত জনপদের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সংস্কার এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে একজন দূরদর্শী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। মো. আবুল কালাম আজাদের মতো শিক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ও রাজপথের পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চেয়ারম্যান পদে এলে এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তার পক্ষে গণজোয়ার ততই তীব্র হচ্ছে।