
মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ৯নং খুকনী ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মনে বইছে এক নতুন পরিবর্তনের হাওয়া। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে খুকনী ইউনিয়নের সর্বস্তরের মেহনতী মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই নাম—উদীয়মান তরুণ নেতা, সমাজসেবক, এনায়েতপুর থানা যুবদলের সুযোগ্য সদস্য সচিব এবং বারবার কারা নির্যাতিত আপসহীন জননেতা মো: সাইদুল ইসলাম (রাজ)।
কৃষক, শ্রমিক, ভ্যানচালক থেকে শুরু করে বয়স্ক নারী—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম তাঁকে আজ অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের ন্যায্য অধিকারের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর
খুকনী ইউনিয়নের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষক, তাঁতি, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষ। বছরের পর বছর ধরে এই সাধারণ মানুষগুলো তাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
কৃষকদের পাশে: সার, বীজ ও সেচ ব্যবস্থার দুর্নীতি দূর করে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই সোচ্চার সাইদুল ইসলাম রাজ।
শ্রমিকদের অধিকার: খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষের ন্যায্য মজুরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে তিনি সবসময় তাদের পাশে থেকেছেন।
বয়স্ক নারী শাপলা বেগমের অনুভুতি: “আমাদের সুখে-দুঃখে তাঁকেই পাই”
খুকনী ইউনিয়নের বয়স্ক মহিলা শাপলা বেগম আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেন:
”আমাদের এই বয়সে কষ্টের শেষ থাকে না। চাল-ডাল থেকে শুরু করে বয়স্ক ভাতা বা নানা সমস্যায় যখন কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না, তখন এই রাজ বাবাই আমাদের খোঁজখবর নেয়। ঝড়ের রাতে হোক বা শীতের সকালে, আমরা বিপদ-আপদে যাকে সবার আগে পাশে পাই, সে হলো আমাদের সাইদুল ইসলাম রাজ। আমরা মা-দাদীরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, সে যেন আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান হয়ে আমাদের সেবা করার সুযোগ পায়।”
কৃষক আব্দুল আলিমের মন্তব্য: “কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে রাজ ভাইয়ের বিকল্প নেই”
ইউনিয়নের প্রবীণ কৃষক আব্দুল আলিম বলেন:
”আমরা কৃষকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলাই, কিন্তু ধানের দাম পাই না। সাইদুল ইসলাম রাজ আমাদের কষ্টের দিনগুলো খুব ভালো করে বোঝে। সে সবসময় কৃষকদের অধিকার রক্ষায় আমাদের সাহস জুগিয়েছে। কোনো দিন নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করেনি। খুকনী ইউনিয়নকে বাঁচাতে হলে এবং কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে হলে রাজ ভাইয়ের মতো সৎ ও সাহসী মানুষকেই আমাদের চেয়ারম্যান হিসেবে দরকার।”
ভ্যানশ্রমিক আসলামের বক্তব্য: “আমাদের অধিকারের রাজপথের লড়াকু সৈনিক”
দিনমজুর ও ভ্যানশ্রমিক আসলাম ক্ষোভ ও আশার সুরে বলেন:
”রাস্তায় রিকশা-ভ্যান চালালে বিভিন্ন সময় নানা হয়রানির শিকার হতে হয় আমাদের। গরিব মানুষের কোনো দাম থাকে না। কিন্তু রাজ ভাই কখনো আমাদের গরিব বলে অবহেলা করেনি। সে আমাদের ভাই, আমাদের বন্ধু। আমাদের যে কোনো বিপদে সে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের দাবি একটাই—আগামী নির্বাচনে রাজ ভাইকে আমরা খুকনীর চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।”
অবহেলিত রাস্তার উন্নয়ন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন
খুকনী ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা হলো বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, অনুন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নাজুক অবস্থা। সাইদুল ইসলাম রাজ তাঁর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিয়েছেন:
রাস্তাঘাটের উন্নয়ন: ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের কাঁচা ও ভেঙে যাওয়া রাস্তাগুলোর পাকাকরণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
কবরস্থান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান: এলাকার প্রতিটি কবরস্থান সংরক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংস্কারের মাধ্যমে একটি মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা।
মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা ও কঠোর অবস্থান
যুবা সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে এক ইস্পাতকঠিন অবস্থান নিয়েছেন সাইদুল ইসলাম রাজ। খুকনী ইউনিয়নকে একটি সম্পূর্ণ মাদক ও অপরাধমুক্ত যুবসমাজবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, যুবসমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া মাদক ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের সাথে কোনো আপস করা হবে না।
বারবার কারা নির্যাতিত আপসহীন নেতা
এনায়েতপুর থানা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনগণের অধিকার আদায় এবং রাজপথের যেকোনো আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাইদুল ইসলাম রাজকে বহুবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। মিথ্যা মামলা ও নানা জুলুম-নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েও তিনি কখনোই জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। কারাবাস ও শত অত্যাচার তাঁকে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে একচুলও টলাতে পারেনি। বরং এই কঠিন পরীক্ষাই তাঁকে খুকনী ইউনিয়নের গণমানুষের প্রকৃত ও পরীক্ষিত নেতায় পরিণত করেছে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের আস্থার প্রতীক
রাজনীতি বা ধর্মের ঊর্ধ্বে গিয়ে সাইদুল ইসলাম রাজ আজ খুকনী ইউনিয়নের সব ধর্ম, গোত্র ও দলের মানুষের কাছে এক বিশ্বাসের নাম। দলমত নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলিমসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁকে নিজেদের অভিভাবক মনে করেন। তাঁর এই সর্বজনগ্রাহ্যতা প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একটি দলের নন, বরং সমগ্র খুকনী ইউনিয়নবাসীর সুখ-দুঃखोंের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মো: সাইদুল ইসলাম রাজ আজ বিজয়ের পথে অপ্রতিরোধ্য। খুকনী ইউনিয়নবাসী এখন কেবল একটি নির্বাচনের অপেক্ষায়, যেখানে ব্যালটের শক্তির মাধ্যমে তারা বেছে নেবে তাদের প্রকৃত জনদরদী নেতাকে।