
পিরোজপুর প্রতিনিধি;
পিরোজপুরের কাউখালীতে জেসমিন বেগম (৫০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১নম্বর আসামি ও নিহতের কথিত দ্বিতীয় স্বামী মো. মানিক হাওলাদারকে মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেস্পন্স ব্যাটলিয়ন বরিশাল (SRB-8)। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,গত ৩ অক্টোবর রাত ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে ৪ অক্টোবর সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় কাউখালী উপজেলার ৫ নম্বর শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালকাঠী গ্রামের নিজ বাড়িতে জেসমিন বেগমকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
৪ অক্টোবর সকালে জেসমিনের বাড়ির কেয়ারটেকার বিষয়টি তাঁর স্বজনদের জানান। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন বাড়িতে গিয়ে সামনের কক্ষের খাটের ওপর জেসমিনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে কাকন মনি বাদী হয়ে কাউখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. মানিক হাওলাদার (৫০) ও মো. আবুল বাসার ফরিদ (৫০)-এর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জেসমিনের সঙ্গে মানিক হাওলাদারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। টাকা লেনদেন নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর আগে জেসমিনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে মানিক ও অপর আসামির বিরুদ্ধে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, জেসমিনকে ধর্ষণ বা গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তাঁর ঘর থেকে প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে ধর্ষণ,হত্যা ও চুরির অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
পরে সোমবার গভীর রাতে মাদারীপুর থেকে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মো. মানিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে SRB-8। গ্রেপ্তারের পর সোমবার বেলা ১১টার দিকে কাউখালী থানা পুলিশ মানিক হাওলাদারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্ত করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখে এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করে।
পুলিশের এই সরেজমিন তদন্তে আসামির কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে কি না,কিংবা হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে কী ধরনের আলামত মিলেছে,তা তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
কাউখালী থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, মামলার অপর আসামি মো. আবুল বাসার ফরিদসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ,জেসমিনের মৃত্যুর ধরন এবং ঘটনায় কারা জড়িত ছিল,সে বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।