
মো: নুরুজ্জামান খোকন (পিরোজপুর)
‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালীতে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস- ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
পরে উপজেলা হলরুমে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, কাউখালীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ রেহেনা আক্তার।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তিদের প্রবীণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই তাদের প্রতি পরিবারের সদস্য ও সমাজের সবার সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, প্রবীণদের বিভিন্ন রোগব্যাধি ও শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাদের চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। প্রবীণদের জন্য ভাতা,আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে প্রবীণদের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় বক্তারা প্রবীণদের নিয়মিত দেখাশোনা করা, তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি প্রবীণদের একাকিত্ব ও মানসিক চাপ দূর করতে পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন,নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি।প্রবীণরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘদিন অবদান রেখেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই সন্তানদের প্রবীণ বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে এবং তাদের জীবনের শেষ সময়টুকু সম্মান,নিরাপত্তা ও ভালোবাসার সঙ্গে কাটানোর সুযোগ করে দিতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা,সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং প্রবীণদের কল্যাণে সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তাবৃন্দ,বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ রেহেনা আক্তার প্রবীণদের প্রতি পরিবারের সদস্যদের দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,প্রবীণদের শুধু ভাতা বা চিকিৎসাসেবা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া,সম্মান করা এবং মানসিকভাবে পাশে থাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নবীন-প্রবীণের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে প্রবীণদের অধিকার,মর্যাদা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে তাদের প্রতি আরও যত্নশীল ও মানবিক হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।