
মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার দুর্গম ও প্রমত্ত যমুনা তীরবর্তী ১ নং সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের ১, ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (মহিলা মেম্বার) পদপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগে নেমেছেন এলাকার জনপ্রিয় নারী নেত্রী মোছা: মমতা খাতুন। সততা, কর্মতৎপরতা এবং জনকল্যাণমূলক মনোভাবের কারণে তিনি ইতোমধ্যেই পুরো এলাকায় পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এলাকার সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তিনি যেমন অভাব-অভিযোগ শুনছেন, তেমনি একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও মডেল ওয়ার্ড গড়ার রূপরেখা তুলে ধরছেন।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের আস্থার প্রতীক
সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে মমতা খাতুন সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। দলমত ও ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সব মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে দল-মতের ঊর্ধ্বে গিয়ে একজন সত্যিকারের জনসেবক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তাঁর এই অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানসিকতা ভোটারদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
জনগণের কন্ঠস্বর: এলাকার মানুষের মূল্যায়ন
কৃষক আব্দুল বারেক বলেন:
”আমাদের এই নদীভাঙন ও কৃষিপ্রধান অঞ্চলে কৃষকদের জীবন সংগ্রাম অনেক কঠিন। মমতা খাতুন সবসময় কৃষকদের ন্যায্য অধিকার, সার-বীজের সঠিক বিতরণ এবং উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত মূল্য পাওয়ার লড়াইয়ে আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি নির্বাচিত হলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
বয়স্ক মহিলা আসমা বেগম বলেন:
”আমাদের মতো বয়স্ক ও প্রবীণ নাগরিকদের খোঁজখবর নেওয়ার মতো মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়। মমতা খাতুন নিজের মেয়ের মতো আমাদের দেখাশোনা করেন। বয়স্ক ভাতা কিংবা অন্যান্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই তিনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
বিধবা মহিলা জুলেখা খাতুন বলেন:
”স্বামীর মৃত্যুর পর দুশ্চিন্তা আর অসহায়ত্বে যখন দিন কাটছিল, তখন মমতা খাতুন বোনটি আমাদের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। অসহায় নারীদের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে তাঁর যে প্রচেষ্টা, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁকে আমরা আমাদের ওয়ার্ডের অভিভাবক হিসেবে দেখতে চাই।”
এলাকার উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত রূপান্তর
দীর্ঘদিন ধরে এলাকার তৃণমূল মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন মমতা খাতুন। তাঁর গঠনমূলক ও সাহসী পদক্ষেপে এলাকায় বেশ কিছু দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধিত হয়েছে:
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: যমুনা তীরের ভাঙনকবলিত ও অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কার এবং চলাচলের উপযোগী করতে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রসার: এলাকার স্কুল, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত সক্রিয়। পাশাপাশি স্থানীয় কবরস্থান সংরক্ষণ, ঈদগাহ মাঠ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তিনি নিয়মিত অনুদান ও সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন।
নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা: এলাকার অবহেলিত নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার পরিকল্পনা তাঁর উন্নয়ন এজেন্ডার অন্যতম প্রধান অংশ।
প্রার্থীর অঙ্গীকার: একটি স্মার্ট ওয়ার্ড গঠন
আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মোছা: মমতা খাতুন বলেন, “আমি ক্ষমতার মোহে নয়, সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের ১, ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের মা-বোন ও ভাইদের সেবা করার ব্রত নিয়ে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচিত হলে এলাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করে সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক সহায়তা সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেব। একটি জবাবদিহিতা মূলক, মাদকমুক্ত ও আধুনিক ওয়ার্ড গড়ে তুলতে আমি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”