
নিজস্ব প্রতিবেদক;
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দীর্ঘস্থায়ী তীব্র কর্মচারী সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দপ্তরের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় খামারি ও সেবাগ্রহীতারা। হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে প্রতিদিন সেবা প্রদান করতে হচ্ছে।
খামার খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দপ্তরে এসে সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় গবাদিপশুর জরুরি চিকিৎসা বা পরামর্শের জন্য এসেও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় কিংবা সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। খাতের এমন বেহাল দশায় মোহনপুরের গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামারিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রধান খন্দকার সাগর আহমেদ জানান, “আমাদের দপ্তরে যে পরিমাণ জনবল থাকার কথা, বর্তমানে তার চেয়ে অনেক কম লোকবল নিয়ে আমাদের কাজ চালাতে হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি আমরা উচ্চ মহলে অবগত করেছি। আশা করি দ্রুত এই সংকট নিরসন হবে।”
ভুক্তভোগী ডেইরি খামারি মো. রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “খামারে গরুর হঠাৎ কোনো সমস্যা দেখা দিলে বা চিকিৎসার প্রয়োজন হলে হাসপাতালে গিয়ে সহজে ডাক্তার বা কর্মী পাওয়া যায় না। লোকবল কম থাকায় তারা চাইলেও আমাদের দ্রুত সেবা দিতে পারছেন না। এতে আমাদের খামার নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকিতে থাকতে হয়।”
স্থানীয় আরেক পোল্ট্রি খামারি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “মোহনপুর একটি কৃষি ও খামারপ্রধান এলাকা। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার খামারি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সেবা নিতে আসেন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেবার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমরা দ্রুত এই দপ্তরে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ বা পদায়নের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও খামারিরা অবিলম্বে শূন্য পদগুলোতে নতুন জনবল নিয়োগের মাধ্যমে মোহনপুরের প্রাণিসম্পদ সেবা আরও গতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।