শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
রাজনীতি কি আদর্শের, নাকি ক্ষমতার? পিরোজপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড:৬টি দোকান ভস্মীভূত,আনুমানিক ২০লাখ টাকার ক্ষতি; কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ট্রাস্টের ২৯ সদস্যের কমিটি; পিরোজপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জাসাসের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ; ভান্ডারিয়ায় ১৩ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি-পাঞ্জাবিসহ তিনজন আটক; পিরোজপুরে নতুন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ; নওগাঁর আত্রাইয়ে রেজাউল ইসলাম রেজু এমপিকে দলিল লেখক সমিতির সংবর্ধনা; কনফার্ম টিকিট আছে,আসন নেই—রেলযাত্রায় ভোগান্তি; গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর সাথে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এম এ মাসুদ হাওলাদারের সৌজন্য সাক্ষাৎ; মোংলায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসুচি পালন; পিরোজপুরে অস্থিতিশীল চক্রান্তের বিরুদ্ধে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ; কাউখালীতে দুই দিনে দুই বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরি, “এলাকায় চোর আতঙ্ক; গুনবহা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা আব্দুল মান্নান মোল্লার; নওগাঁয় হত্যা মামলায় সাংবাদিককে আসামি: বাদীর পাল্টা বক্তব্য, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন প্রচারণার’ অভিযোগ; নওগাঁর আত্রাইয়ে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাসিক সমন্বয় সভা; পিরোজপুরে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন আটক; সাংবাদিকতা পেশায় কেন এই হতাশা ও বিশৃঙ্খলা? মোংলা বন্দরে এবার সর্বোচ্চ কার্গো হ্যাল্ডলিং ও রাজস্ব আয়ের রেকর্ড; নওগাঁর মান্দায় বাসচাপায় ভ্যানচালকের মৃত্যু; কাউখালী সরকারি কলেজের প্রসপেক্টাসে বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গ, বিক্ষোভ-অগ্নিসংযোগ;

রাজনীতি কি আদর্শের, নাকি ক্ষমতার?

  • Update Time : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত




মোঃ মাসুদ রানা কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি ;

আজ এই লেখাটি লিখতে বসে বারবার একটি প্রশ্ন মনে পড়ছে—রাজনীতি কি আদর্শের জায়গা, নাকি ক্ষমতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার একটি কৌশল?
রাজনীতি যার যার পছন্দের বিষয়। একজন মানুষ আওয়ামী লীগ করতে পারেন, বিএনপি করতে পারেন, এনসিপি করতে পারেন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক মতের ভিন্নতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কেউ এক দলের আদর্শে বিশ্বাস করবেন, কেউ অন্য দলের নীতিকে সমর্থন করবেন। এতে আপত্তির কিছু নেই।
কিন্তু আপত্তির জায়গা তৈরি হয় তখন, যখন দেখা যায়—ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের রাজনৈতিক পরিচয়ও পাল্টে যায়।
একসময় যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন, দলীয় পদ-পদবি নিয়েছেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন কিংবা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন—রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের পর তাঁদেরই কেউ কেউ এখন , এনসিপি জামাত. বিএনপি. বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ নতুন দলের বিভিন্ন পর্যায়ে পদ-পদবিও গ্রহণ করছেন।
এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটি কি রাজনৈতিক মতের পরিবর্তন, নাকি ক্ষমতার সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের সংস্কৃতি?
অবশ্যই প্রত্যেক নাগরিকের রাজনৈতিক মত পরিবর্তনের অধিকার রয়েছে। কেউ যদি মনে করেন, তাঁর পুরোনো দলের নীতি-আদর্শ আর তাঁর বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাহলে তিনি দল ছাড়তে পারেন। নতুন দলে যোগ দিতে পারেন। এটি রাজনৈতিক জীবনের স্বাভাবিক অংশও হতে পারে।
কিন্তু জনগণের প্রশ্নের জায়গাটিও অস্বীকার করা যায় না।
কারণ রাজনীতি শুধু একটি দলের নাম বা একটি পদ-পদবি নয়। রাজনীতি মানে একটি বিশ্বাস, একটি আদর্শ, একটি রাজনৈতিক দর্শন এবং মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক।
রাজনীতির মাঠে ‘সুবিধাবাদ’ নিয়ে প্রশ্ন কেন?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দল পরিবর্তন নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের এক দল থেকে অন্য দলে যাওয়ার ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। যেমন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ সানওয়ার হোসেন মোল্লা ২০২৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে।
অন্যদিকে, এনসিপির সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিএনপিতে যোগ দেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনসিপি থেকে একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা পদত্যাগ করেছিলেন।

আবার বিএনপির সাবেক যুবদল নেতা মোহাম্মদ ইসহাক সরকারসহ কয়েকজন ২০২৬ সালের এপ্রিলে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

অর্থাৎ রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন শুধু একটি দল থেকে আরেকটি দলে সীমাবদ্ধ নয়; বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দল ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যে রাজনৈতিক যাতায়াত দেখা যাচ্ছে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—প্রতিটি দলবদলকে সুবিধাবাদ বলা যাবে না। একজন মানুষ সত্যিই তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস পরিবর্তন করতে পারেন। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পুরোনো দলের সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে। এমনকি নিজের ভুল উপলব্ধি করেও রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে পারেন।
কিন্তু যখন দলবদল বারবার ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মানুষের চোখে প্রতীয়মান হয়, তখন জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তাহলে রাজনৈতিক আদর্শ কোথায়?
একজন রাজনৈতিক কর্মী যখন কোনো দলের পতাকা হাতে নেন, তখন তিনি শুধু একটি দলের নাম গ্রহণ করেন না। তিনি সেই দলের ইতিহাস, রাজনৈতিক সংগ্রাম, নীতি ও আদর্শের সঙ্গেও নিজেকে যুক্ত করেন।
ধরা যাক, একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। দলের হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, সভা করেছেন, মিছিল করেছেন, কর্মীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই সময় তিনি ওই দলের নীতি-আদর্শকে সঠিক বলে জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।
কয়েক বছর পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেল। তখন তিনি সেই দল ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দলে যোগ দিলেন এবং নতুন দলের নীতি-আদর্শের পক্ষে একই রকম জোরালো বক্তব্য দিতে শুরু করলেন।
তখন সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করতেই পারেন—
আগের বক্তব্যগুলো কি ভুল ছিল?
নাকি বর্তমান বক্তব্যই সত্য?
পরিবর্তনটা কোথায়—আদর্শে, নাকি রাজনৈতিক অবস্থানে?
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রত্যেক রাজনীতিকের দায়িত্ব।
কারণ জনগণ এখন আগের মতো শুধু বক্তৃতা শোনে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে পুরোনো বক্তব্য, পুরোনো ছবি, পুরোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সবই মানুষের সামনে ফিরে আসে।
ক্ষমতা বদলাবে, কিন্তু নীতি কি বদলাবে?
রাজনীতির সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।
আজ যে দল ক্ষমতায়, আগামীকাল সেই দল বিরোধী দলে যেতে পারে। আজ যে দল বিরোধী দলে, আগামীকাল সেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেতে পারে। গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়মই হলো ক্ষমতার পরিবর্তন।
তাই যদি কোনো রাজনীতিকের রাজনৈতিক পরিচয়ও ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে বারবার পরিবর্তিত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
কারণ একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী হয়তো বছরের পর বছর একটি দলের জন্য কাজ করেছেন। প্রতিকূল সময়ে রাজপথে থেকেছেন। মামলা-মোকদ্দমার মুখোমুখি হয়েছেন। হামলা-মামলা কিংবা রাজনৈতিক চাপ সহ্য করেছেন। দলের দুঃসময়ে পাশে থেকেছেন।
অন্যদিকে কেউ যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল দেখে নতুন দলে যোগ দিয়ে দ্রুত পদ-পদবি পেয়ে যান, তাহলে তৃণমূলের কর্মীদের মনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তাহলে দীর্ঘদিনের ত্যাগের মূল্য কোথায়?
ত্যাগী কর্মীর রাজনীতি বনাম সুযোগসন্ধানী রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
একটি দল যখন ক্ষমতায় আসে, তখন সেই দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীরা স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করেন—দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হবে।
কিন্তু যদি দেখা যায়, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিরা দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করছেন, অথচ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীরা পিছনে পড়ে থাকছেন, তাহলে দলের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
এই সমস্যা শুধু একটি দলের নয়। এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমস্যা।
রাজনীতিতে নতুন মানুষ আসবেন—এটি প্রয়োজনীয়। নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে যুক্ত হবে—এটিও স্বাভাবিক। অন্য দল থেকে কেউ এসে নতুন দলে যোগ দেবেন—সেটিও রাজনৈতিক অধিকারের অংশ।
কিন্তু নতুনদের জায়গা দিতে গিয়ে পুরোনো ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করা হলে রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত দুর্বল হতে পারে।
দল পরিবর্তন অপরাধ নয়, কিন্তু ব্যাখ্যা প্রয়োজন
আমি মনে করি, কেউ দল পরিবর্তন করলেই তাঁকে বেইমান বা বিশ্বাসঘাতক বলা ঠিক নয়।
কারণ মানুষের রাজনৈতিক চিন্তা পরিবর্তন হতে পারে। রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে নতুন উপলব্ধি তৈরি হতে পারে। একটি দলের সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে। নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার প্রয়োজন অনুভূত হতে পারে।
কিন্তু একটি বিষয় থাকা দরকার—স্বচ্ছতা।
যিনি দল পরিবর্তন করছেন, তিনি জনগণের কাছে বলুন—কেন পরিবর্তন করছেন।
তিনি যদি বলেন, “আমি আগের দলের নীতির সঙ্গে একমত নই, তাই নতুন দলে এসেছি”—জনগণ সেই বক্তব্য শুনবেন।
তিনি যদি বলেন, “আমি ভুল বুঝেছিলাম, এখন নতুন রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাস করি”—সেটিও একটি ব্যাখ্যা।
কিন্তু কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া শুধু ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা মানুষের মনে যে প্রশ্ন তৈরি করে, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই।
নতুন প্রজন্মের সামনে আমরা কী উদাহরণ রাখছি?
আজকের তরুণরা রাজনীতিকে অন্যভাবে দেখছে।
তারা শুধু নেতার বর্তমান বক্তব্য শুনছে না; তাঁর অতীতও খুঁজে দেখছে। কয়েক বছর আগে তিনি কী বলেছিলেন, কোন দলের সঙ্গে ছিলেন, কার সঙ্গে ছবি তুলেছেন, কোন আন্দোলনে কী ভূমিকা ছিল—এসবও এখন সহজেই সামনে চলে আসে।
তাই রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—রাজনৈতিক স্মৃতি এখন খুব দীর্ঘ।
একজন নেতা আজ যে বক্তব্য দিচ্ছেন, আগামীকাল সেই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর পাঁচ বছর আগের বক্তব্য তুলনা করা সম্ভব।
এ কারণে রাজনীতিতে ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
আমাদের তরুণদের যদি আমরা শেখাই—ক্ষমতায় যারাই আসুক, তাদের সঙ্গে থাকলেই সুবিধা পাওয়া যাবে, তাহলে তারা রাজনীতিকে আদর্শের জায়গা হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত সুযোগ পাওয়ার পথ হিসেবে দেখতে পারে।
আর সেটি কোনোভাবেই একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ভালো বার্তা নয়।
জনগণের আস্থা সবচেয়ে বড় বিষয়
রাজনৈতিক দলের শক্তি শুধু সংসদীয় আসন, পদ-পদবি কিংবা বড় বড় নেতার ওপর নির্ভর করে না। একটি দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার কর্মী ও জনগণের আস্থা।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক, অংশীদারিত্ব ও স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, বিএনপির কয়েকজন মিত্র দল সরকারের অংশীদারিত্ব ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

এ ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয়, রাজনৈতিক জোট ও সম্পর্ক শুধু নির্বাচনের সময়ের বিষয় নয়; ক্ষমতায় যাওয়ার পরও রাজনৈতিক আস্থা, অংশীদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।
অন্যদিকে এনসিপির ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক অবস্থান, জোট ও নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ও পরিবর্তন দেখা গেছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন একটি বড় প্রশ্ন হলো—নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলো কীভাবে আদর্শ, সংগঠন ও জনআস্থাকে একসঙ্গে ধরে রাখবে?
রাজনীতি হোক মানুষের জন্য
আমাদের মনে রাখতে হবে, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য পদ-পদবি নয়।
রাজনীতি মানুষের জন্য।
মানুষের অধিকার, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের কল্যাণ—এসব বিষয়ই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হওয়া উচিত।
কোনো নেতা কতবার মন্ত্রী হয়েছেন, কতবার পদ পেয়েছেন, কোন দলের সঙ্গে ছিলেন—এসবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তিনি জনগণের জন্য কী করেছেন।
দলের দুঃসময়ে তিনি কোথায় ছিলেন?
মানুষের বিপদে তিনি পাশে ছিলেন কি না?
নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য তিনি কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন?
এগুলোই হওয়া উচিত রাজনৈতিক মূল্যায়নের বড় মাপকাঠি।
শেষ কথা: রাজনীতি করুন, কিন্তু আদর্শ বিক্রি করবেন না
আমি কোনো ব্যক্তি বা কোনো রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে এই লেখা লিখছি না। এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন।
আপনি যে দলই করুন, করুন মন থেকে।
যে আদর্শে বিশ্বাস করেন, সেটির পক্ষে দাঁড়ান।
মত পরিবর্তন হলে জনগণকে জানান।
দল পরিবর্তন করলে কারণ ব্যাখ্যা করুন।
কিন্তু শুধু ক্ষমতার সঙ্গে থাকার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় বদলাবেন না—এটাই প্রত্যাশা।
কারণ ক্ষমতা আসে, ক্ষমতা যায়।
পদ আসে, পদ যায়।
রাজনৈতিক সমীকরণ বদলায়।
আজকের মিত্র আগামীকাল প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন। আজকের বিরোধী আগামীকাল সরকারে যেতে পারেন। এটাই রাজনীতির বাস্তবতা।
কিন্তু একজন মানুষের রাজনৈতিক চরিত্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় ক্ষমতার সময়ে নয়, বরং প্রতিকূল সময়ে।
যে কর্মী দলের দুঃসময়ে পাশে থাকেন, তাঁর মূল্যায়ন হওয়া উচিত। যে নেতা নিজের বিশ্বাসের জায়গায় অটল থাকেন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান জনগণ নিশ্চয়ই বিবেচনা করবেন।
আর যারা দল পরিবর্তন করেন, তাঁদেরও জনগণের কাছে জবাবদিহির জায়গা থাকা উচিত—কেন পরিবর্তন করলেন, কী বিশ্বাস থেকে করলেন এবং নতুন দলের জন্য আপনার রাজনৈতিক অঙ্গীকার কী?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা এমন একটি সংস্কৃতি চাই, যেখানে দল পরিবর্তনকে অপরাধ হিসেবে দেখা হবে না, আবার ক্ষমতার সুবিধার জন্য আদর্শ পরিবর্তনকেও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হবে না।
আমরা চাই—রাজনীতি হোক নীতির, নেতৃত্ব হোক মানুষের জন্য, আর রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তি হোক বিশ্বাসযোগ্যতা।
কারণ শেষ পর্যন্ত জনগণ শুধু নেতার পদ দেখে না—
জনগণ মনে রাখে তাঁর কথা, তাঁর কাজ, তাঁর অবস্থান এবং তাঁর রাজনৈতিক সততা।
ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু মানুষের স্মৃতিতে একজন রাজনীতিকের পরিচয় অনেক দীর্ঘস্থায়ী।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews