
চাঁদা না দিলে রড-সিমেন্ট নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি, ট্রাক জব্দ; পাঁচটির বেশি মামলার তথ্য;
মোঃ মাসুদ রানা কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;
কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে মোমিন আহমেদ ভূইয়া ওরফে ‘কানা মমিন’ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি-১১। পরে তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার মোমিন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া এলাকার মৃত নান্নু ভূইয়ার ছেলে।
এসআরবি-১১-এর তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঠাকুরপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি নির্মাণাধীন ভবনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগে মোমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না দিলে নির্মাণাধীন ভবন থেকে রড, সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এসব মালামাল পরিবহনের জন্য আনা একটি ট্রাকও অভিযানের সময় জব্দ করা হয়।
এসআরবি-১১ আরও জানিয়েছে, মোমিনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচটির বেশি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাকে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ছাড়া তার সহযোগীরা ঠাকুরপাড়া ও আশপাশের এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১১।
এসআরবি-১১-এর উপপরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা নগরীতে নির্মাণাধীন ভবনকে ঘিরে ভয়ভীতি বা চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে নির্মাণসামগ্রী জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার হুমকির অভিযোগ থাকায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও মামলাগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত না করে আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।
এসআরবি-১১ জানিয়েছে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।