
মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
তৃণমূলের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন বুঝতে যার জুড়ি নেই, সেই রাজপথের লড়াকু সৈনিক মো: আবু হোসেন আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। ছাত্র রাজনীতির সূচনালগ্ন থেকেই যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন। ১৯৯৭ সালে বেলকুচি উপজেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক, ২০০১সালে রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং পরবর্তীতে ২০১০ সালে মালয়েশিয়া পিনাং শাখা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বর্তমানে জাসাস-এর সভাপতি ও শিসউক যমুনা গ্রাম থিয়েটার ক্লাবের নেতৃত্ব দিয়ে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তিনি রেখেছেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য হামলা ও মামলার শিকার হয়েও জনমানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তিনি ছিলেন অবিচল। সাধারণ মানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করেই তিনি এবার ২নং রাজাপুর ইউনিয়নের সেবক হতে চান।
আগামীর রাজাপুর: আমার রূপরেখা
আমি চাই একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত এবং মানবিক ইউনিয়ন। আমার নির্বাচনী অঙ্গীকারসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. অভিবাসী শ্রমিক ও পরিবার সুরক্ষা:
আমাদের ইউনিয়নের অনেক রেমিট্যান্স যোদ্ধা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছেন। তাদের ও তাদের পরিবারের সুরক্ষা আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
হেল্প ডেস্ক: প্রবাসীদের আইনি সহায়তা ও যেকোনো প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে একটি বিশেষ ‘অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্র’ চালু করা হবে।
পরিবার সুরক্ষা: প্রবাসীদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ড পর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
পুনর্বাসন: বিদেশফেরত কর্মীদের দক্ষতা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা স্বল্পসুদে ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করা হবে।
২. আগামীর ভবিষ্যৎ ও শিশু সুরক্ষা:
ইউনিয়নের প্রতিটি শিশুর অধিকার নিশ্চিত করা আমার অগ্রাধিকার। শিশু শ্রম পুরোপুরি বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মেধাবী অথচ অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষাবৃত্তি তহবিল’ গঠন করা হবে।
৩. স্বচ্ছ সামাজিক নিরাপত্তা:
বয়স্ক, বিধবা ও দুস্থদের ভাতার প্রতিটি টাকা যেন প্রকৃত হকদারের কাছে পৌঁছায়। মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়ম দূর করে ভাতার কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়াকে করা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড ও হয়রানিমুক্ত।
৪. কৃষক ও শ্রমিকের মর্যাদা:
কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য।
৫. আধুনিক ও পরিকল্পিত অবকাঠামো:
অবহেলিত গ্রামীণ অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে রাজাপুরকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করব।
৬. যুব উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতায়ন:
ইউনিয়নের বেকার তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে তরুণদের এগিয়ে নিতে বিনামূল্যে ইন্টারনেট জোন ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
৭. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষা:
যমুনা তীরবর্তী এলাকা হিসেবে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা হবে।
৮. সুশাসন ও ন্যায়বিচার:
গ্রাম আদালতকে কার্যকর ও নিরপেক্ষ করা হবে। যেকোনো নাগরিক কোনো অন্যায় বা অবিচারের শিকার হলে পরিষদে দ্রুত প্রতিকার পাবেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হবে ইউনিয়ন পরিষদের মূল চালিকাশক্তি।
”আমার রাজনীতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য। রাজপথের অভিজ্ঞতা ও আপনাদের দোয়া সাথে থাকলে, ২নং রাজাপুর ইউনিয়নকে একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন পূরণে আমি বদ্ধপরিকর।”