এ এইচ এম জয়নাল আবেদীন
বিভাগীয় প্রতিনিধি (চট্রগ্রাম);
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমার উপলক্ষে কক্সবাজারের রামুর ফকিরা বাজারের পূর্বপাশে বাঁকখালী নদীতে সম্প্রীতির বন্ধনে জাহাজ ভাসা উৎসব সম্পন্ন হয়েছে।
২৬ অক্টোবর সোমবার বিকেলে ‘সম্প্রীতির জাহাজে, ফানুসের আলোয় দূর হোক সাম্প্রদায়িক অন্ধকার’ এ শ্লোগানে জাহাজ ভাসানোর আয়োজন করা হয়।
দেখা গেছে, রামুর পূর্ব রাজারকুল, হাজারীকুল, হাইটুপী রাখাইন পাড়া, হাইটুপী বড়ুয়াপাড়া, দ্বীপ-শ্রীকুল, জাদিপাড়া ও মেরংলোয়া গ্রাম থেকে মোট ৭ টি কল্পজাহাজ নদীতে ভাসানো হয়েছে। সাত-আটটি নৌকার উপর বসানো বাঁশ, বেত, কাঠ এবং রঙিন কাগজ দিয়ে অপূর্ব কারুকাজে তৈরি এক-একটি কল্প জাহাজ আকর্ষণীয় নির্মাণ শৈলীর কারণে খুব সহজেই সবার দৃষ্টি কাড়ে। প্রতিটি জাহাজেই আছে একাধিক মাইক। ঢোল, কাঁসর, মন্দিরাসহ নানা বাদ্যের তালে জাহাজের উপরে শিশু কিশোর ও যুবকরা নেচে গেয়ে অন্যরকম আনন্দে। জাহাজ নিয়ে ভেসে এপার থেকে ওপারে যেতে যেতে মাইকে চলে বৌদ্ধ কীর্তন-নাচসহ নানা আনন্দায়োজন।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউ এন ও জিল্লুর রহমান বলেন, জাহাজ ভাসা উৎসবকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মূলত উৎসবটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হলেও এখানে সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতি লক্ষনীয়। যা সকল ধর্মের মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়।
কেন্দ্রীয় প্রবারণা পূর্ণিমা ও কল্প জাহাজ ভাসা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিপ্লব বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মোহাম্ম খৈয়াম,বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। উদ্ভোধক ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড, সুকুমল বড়ুয়া,
এতে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান,রামুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরুপ মুহুরী, ও রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক, এটিএন নিউজ,
নির্বাহী সম্পাদক শফিউল আজম, রামু চৌমুহনী বনিক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন রকি।
সহ অন্যরা।উল্লেখ্য, অর্ধশতাব্দীকাল ধরে রামুতে এ উৎসবের আয়োজন চলে আসছিলো।