রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
ভাঙ্গুড়ায় জাতীয় যুব দিবস পালনে সমিতির কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ; নটরডেম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেলেন রামুর তেচ্ছিপুলের কৃতী সন্তান আখতারুজ্জামান ঈশান; কাউখালীতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন:যুব র‍্যালি; শীতের আগমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন লেপ-তোষক কারিগররা; মোহনপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ পালিত; ওলামা-মাশায়েখদের মিলনমেলা, নেছারাবাদে জামায়াতের সম্মেলন অনুষ্ঠিত; এইচএসসিতে শতভাগ পাস; মনোহরদীতে এইচএসসি ফলাফলে বিপর্যয়, সরকারি কলেজে ফেল ৪৫৭ শিক্ষার্থী; কাউখালীতে জেসমিন হত্যা মামলায় আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার; কবিতা-অভিমানী; দাবি না মানলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে: মাওয়ায় শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি; তানোরে তালন্দ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান; নওগাঁর আত্রাইয়ের বাকি ৪ জনের দাফন সম্পন্ন; মোংলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা; কাউখালীতে ইউপি নির্বাচন ২০২৭ বিএনপির দলীয় সমর্থন পেতে ১৪৮ জনের জীবনবৃত্তান্ত জমা; গাজীপুরে পিবিআইয়ের এস আই আলতাফের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ; কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ, ফেল ১৫ প্রতিষ্ঠানে; বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সাবেক ও তৃণমূল নেতাদের মতবিনিময়; প্রেস রিলিজ ; ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির কারখানায় অভিযান;

মনোহরদীতে এইচএসসি ফলাফলে বিপর্যয়, সরকারি কলেজে ফেল ৪৫৭ শিক্ষার্থী;

  • Update Time : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩২ বার পঠিত




পাঁচকান্দি কলেজে শতভাগ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩ জন;

মোঃ আঃ কুদ্দুস মনোহরদী (নরসিংদী)প্রতিনিধি :

নরসিংদীর মনোহরদীতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো ফলাফল করলেও বেশ কয়েকটি কলেজে দেখা দিয়েছে হতাশাজনক ফলাফল। বিশেষ করে মনোহরদী সরকারি কলেজের ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৬১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ৪৫৭ জন। পাসের হার মাত্র ২৫ দশমিক ২০ শতাংশ। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

প্রাপ্ত ফলাফল শিট অনুযায়ী, উপজেলার আটটি কলেজ থেকে এবার মোট ১ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮৭৩ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৮৭৯ জন। সে হিসাবে উপজেলায় গড় পাসের হার ৪৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

ফলাফলে উপজেলার মধ্যে সেরা সাফল্য দেখিয়েছে পাঁচকান্দি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ২০২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। শতভাগ পাসের পাশাপাশি ২৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

এদিকে সরদার আছমত আলী মহিলা কলেজও প্রশংসনীয় ফলাফল করেছে। ২০৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২০০ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।

অন্যদিকে মনোহরদী সরকারি কলেজের ফলাফল পুরো উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৬১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৫৪ জন পাস করেছে। ফেল করেছে ৪৫৭ জন। পাসের হার ২৫ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ শূন্য।

খিদিরপুর কলেজের ফলাফলও আশানুরূপ হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির ২৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯৮ জন এবং ফেল করেছে ১৫২ জন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এখানেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

এ ছাড়া বড়চাপা ইউনিয়ন আদর্শ কলেজে পাসের হার ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, বড়চাপা কলেজে ৫১ দশমিক ৯২ শতাংশ, হাতিরদিয়া রাজিউদ্দিন কলেজে ৪৮ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং আফাজ উদ্দিন খান কলেজে ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

ভালো ফলাফলের পেছনে নিয়মিত মনিটরিং

সরদার আছমত আলী মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই শতভাগ উপস্থিতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কলেজের শিক্ষকরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় করা হয়। শিক্ষকদের আন্তরিকতা, নিরলস পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণেই ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

ফলাফল বিপর্যয়ের ব্যাখ্যা অধ্যক্ষের

মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন কলেজ থেকে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থী এবং টিসি (ছাড়পত্র) নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা এ কলেজে ভর্তি হয়। এ ধরনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫০ শতাংশ। ফলে তাদের ফলাফলের ওপর কলেজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরের ফলাফলের ধারাবাহিকতায় এবারও কলেজের ফলাফলে অবনতি হয়েছে। গত বছর পাসের হার ছিল ৩৪ শতাংশ, যা এ বছর কমে ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন

সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই উপজেলার একটি কলেজে শতভাগ পাস এবং ২৩টি জিপিএ-৫ অর্জনের বিপরীতে অন্য একটি কলেজে পাসের হার মাত্র ২৫ শতাংশের ঘরে। এই বৈপরীত্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম কিংবা অবকাঠামো নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষাগত অর্জনই হোক প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।প্রকাশের আগে একটি বিষয় যাচাই করা জরুরি: প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ফলাফলের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বক্তব্যে গত বছরের পাসের হার ৩৪ শতাংশ এবং এ বছরের ২৫ শতাংশ উল্লেখ রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews