মানুষ মানুষের জন্য—মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তেঁতুলিয়ার ব্যবসায়ী আলমগীর হোসাইন
বিশেষ প্রতিনিধি: পঞ্চগড়;
মানবতা আজও বেঁচে আছে মানুষের হৃদয়ে। তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার রণচণ্ডী বাজারের সুরভী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মো. আলমগীর হোসাইন। দীর্ঘ চার বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন শাহিনুরকে বিনা মূল্যে খাবার দিয়ে পাশে থেকেছেন তিনি। অবশেষে চার বছর পর আপনজনদের খুঁজে পেয়েছেন শাহিনুর। স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার আনন্দে আত্মহারা তিনি।
জানা যায়, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর শাহিনুর দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার রণচণ্ডী বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। স্থানীয় অনেকেই তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি হিসেবে চিনতেন। এ সময় তাঁর নিয়মিত খাবারের অন্যতম অবলম্বন হয়ে ওঠে আলমগীর হোসাইনের সুরভী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট।
দীর্ঘ চার বছর ধরে কোনো অর্থ ছাড়াই শাহিনুরকে খাবার দিয়েছেন হোটেলমালিক আলমগীর হোসাইন। অসহায় ও দুস্থ মানুষের প্রতি তাঁর এই মানবিক আচরণ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁর কাছে অসহায় মানুষের পরিচয়ই বড়—তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই যেন তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও আলমগীর হোসাইন আরও তিনজন অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে কয়েক বছর ধরে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। পরে সাংবাদিক, স্থানীয় জনগণ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় তাঁদের স্বজনদের খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুধু অসহায় মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করাই নয়, শিক্ষার প্রসারেও ভূমিকা রেখে চলেছেন আলমগীর হোসাইন। এলাকার অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করে আসছেন তিনি। পাশাপাশি দুঃখী ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, দীর্ঘ চার বছর ধরে নিখোঁজ স্বামীর অপেক্ষায় ছিলেন শাহিনুরের স্ত্রী। তাঁর স্ত্রী উচ্চমাধ্যমিক পাস এবং তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে, যে বর্তমানে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ধরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন তিনি। তাঁর আকুতি ছিল—আল্লাহ যেন তাঁর স্বামীকে যেখানেই রাখেন, সুস্থ ও নিরাপদে রাখেন।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শাহিনুরকে ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে স্বস্তি ও আনন্দ। চার বছরের বিচ্ছেদ শেষে আপনজনদের কাছে ফিরে আসা শাহিনুরের ঘটনা এলাকায় মানবিকতার এক আবেগঘন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
আলমগীর হোসাইনের এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দেয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন একটি উদার মন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।
মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাসকে ধারণ করে আলমগীর হোসাইনের মতো মানুষগুলোই সমাজে মানবতার আলো ছড়িয়ে দেন।