ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের চাচকিয়া গ্রামের এক নারীকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে মারধর, গর্ভের সন্তান নষ্ট করা এবং জোরপূর্বক তালাক দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্বামী মো. শাকিল গাজী। এ ঘটনায় ভাঙ্গুড়া থানার পুলিশ প্রশাসন ও পাবনা জেলার সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী শাকিল গাজীর বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার এলাকায়। তাঁর দাবি, ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের চাচকিয়া গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদের মেয়ে মোছা. ফাহমিদা পারভীনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর শাকিলের পরিবার তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিলেও স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা বিয়েটি মেনে নিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাকিলের ভাষ্য, বিয়ের পর একপর্যায়ে তাঁর শ্বশুর পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তাঁর স্ত্রী আবার শাকিলের কাছে ফিরে আসেন। এরপর তাঁরা প্রায় সাত মাস একসঙ্গে সংসার করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে তাঁর স্ত্রীর ভাই তাঁদের সম্পর্কের উন্নতির কথা বলে ফাহমিদাকে শাকিলের বাড়িতে থেকে নিয়ে যান। তখন ফাহমিদা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের এক সপ্তাহ পর তাঁকে ফিরিয়ে নিতে যাওয়ার কথা বলা হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়নি।
শাকিলের দাবি, পরে তিনি নিজেই শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীকে দেখতে যান। সঙ্গে মিষ্টি নিয়ে গেলে তাঁর মামাশ্বশুর ও শ্যালক তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়েছে এবং তাঁকে জোরপূর্বক তালাক দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শাকিল।
এ ঘটনায় নিজের অনাগত সন্তানের ক্ষতি এবং দাম্পত্য জীবনের পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাকিল বলেন, তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চান। একই সঙ্গে তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার অভিযোগেরও সঠিক তদন্ত দাবি করেন।
তিনি ভাঙ্গুড়া থানার পুলিশ প্রশাসন ও পাবনা জেলার সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তাঁর অভিযোগের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়।