মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
কাউখালী সরকারি কলেজের প্রসপেক্টাসে বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গ, বিক্ষোভ-অগ্নিসংযোগ; বদলিজনিত বিদায়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপারকে সংবর্ধনা; ​কাউখালীতে বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় আলামিন কাজী গ্রেপ্তার; জেলা পুলিশ পিরোজপুরের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত; নওগাঁতে একযুগ ধরে গাছের সাথে শিকলে বাঁধা জীবন কাটছে বকুলের ; দে‌বিদ্বা‌রে মা ও ভাতিজিকে হত্যা, ঘাতক আটক; পিরোজপুর আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি; মানবিক ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে কাদির হানিফে আস্থার প্রতীক নূরনবী টিপু; রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু; নওগাঁ-নাটোর মহাসড়কে নিরাপত্তায় এমপির অর্থায়নে দুই পুলিশ বক্স; ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নিহত; ভাঙ্গুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ; আত্রাইয়ের আটগ্রামে ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর; নওগাঁর আত্রাইয়ের ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে সার ডিলার নিয়োগের দাবিতে কৃষকদের গণস্বাক্ষর ; মায়ের আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ, জঙ্গলে মিলল কুবি শিক্ষকের ছেলের মরদেহ; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৩; নওগাঁর ভবানীপুরে কোকো সুপার লীগের পর্দা উঠল, প্রথম ম্যাচে জয় পেল জায়ান ফ্যাশান; দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছেন ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী; দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছেন ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী; দেবিদ্বারে স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে প্রবাসীর বাড়িতে এক নারীর অবস্থান;

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার: ন্যায়বিচার, ভূমি ও শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি;

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট, ২০২৬
  • ১১৯ বার পঠিত




নিকোলাস বিশ্বাস;

বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ভূমি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারসহ নানা ক্ষেত্রে বৈষম্য ও বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছে। এসব সমস্যার টেকসই সমাধানে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা এবং অংশীজনদের মধ্যে অর্থবহ সংলাপ।

ন্যায়বিচারের পথে দীর্ঘসূত্রিতা

দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া, যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহে ব্যর্থতা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ব্যর্থতা বিচারপ্রাপ্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতেও নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

বিশেষ করে আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপদে অভিযোগ জানানোর সুযোগ, আইনি সহায়তা, দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ন্যায়বিচারের অভাব কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি: ২৯ বছরেও অপূর্ণ বাস্তবায়ন

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ছিল দীর্ঘ সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা।

চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় তিন দশক পরও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সরকার চুক্তির বেশ কিছু ধারা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের কার্যকর ক্ষমতায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

বিশেষ করে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি না হওয়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাসকে আরও গভীর করছে। তাই শান্তিচুক্তির অবশিষ্ট বিষয়গুলো বাস্তবায়নে একটি সুস্পষ্ট, সময়বদ্ধ ও অংশগ্রহণমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের নতুন সুযোগ

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও দাবিগুলোকে জাতীয় নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আরও গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আদিবাসী প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়মিত সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শুধু দাবি-দাওয়া শোনা নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণ এবং তার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণে করণীয়

ভূমি বিরোধের সমাধান:
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যার জন্যও পৃথক ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা:
আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত আইনি সহায়তা, নিরাপত্তা, দ্রুত তদন্ত এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি:
জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ বাড়াতে হবে। মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা উপকরণ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যেতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি:
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে, যাতে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন:
চুক্তির অবশিষ্ট ধারাগুলো বাস্তবায়নে সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য অংশীজনকে নিয়ে নতুন করে গঠনমূলক সংলাপ শুরু করা প্রয়োজন। বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করলে অগ্রগতি পরিমাপ করা সহজ হবে। চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি এখনো বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

বৈচিত্র্যের মধ্যেই গণতন্ত্রের শক্তি

বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী এ দেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়নযাত্রায় বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষের অবদান রয়েছে। তাই তাদের অধিকার, মর্যাদা ও নাগরিক সমতা নিশ্চিত করা কেবল কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও মানবিক দায়িত্বের অংশ।

বাংলাদেশের শক্তি সাংস্কৃতিক একরূপতায় নয়; বরং ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাপনের বৈচিত্র্যের মধ্যে নিহিত। এই বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং সব জনগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূমির অধিকার রক্ষা কোনো দয়া বা অনুকম্পার বিষয় নয়। এটি ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রশ্ন।

অতএব, সময় এসেছে সমস্যাগুলোকে দীর্ঘসূত্রতায় না রেখে সংলাপ, আইনের শাসন এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভূমি বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি এবং আদিবাসী নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেলে একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

নিকোলাস বিশ্বাস
উন্নয়নকর্মী ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত লেখক
যোগাযোগ: gonomaddyom@gmail.com

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews