মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
কাউখালী সরকারি কলেজের প্রসপেক্টাসে বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গ, বিক্ষোভ-অগ্নিসংযোগ; বদলিজনিত বিদায়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপারকে সংবর্ধনা; ​কাউখালীতে বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় আলামিন কাজী গ্রেপ্তার; জেলা পুলিশ পিরোজপুরের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত; নওগাঁতে একযুগ ধরে গাছের সাথে শিকলে বাঁধা জীবন কাটছে বকুলের ; দে‌বিদ্বা‌রে মা ও ভাতিজিকে হত্যা, ঘাতক আটক; পিরোজপুর আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি; মানবিক ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে কাদির হানিফে আস্থার প্রতীক নূরনবী টিপু; রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু; নওগাঁ-নাটোর মহাসড়কে নিরাপত্তায় এমপির অর্থায়নে দুই পুলিশ বক্স; ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নিহত; ভাঙ্গুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ; আত্রাইয়ের আটগ্রামে ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর; নওগাঁর আত্রাইয়ের ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে সার ডিলার নিয়োগের দাবিতে কৃষকদের গণস্বাক্ষর ; মায়ের আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ, জঙ্গলে মিলল কুবি শিক্ষকের ছেলের মরদেহ; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৩; নওগাঁর ভবানীপুরে কোকো সুপার লীগের পর্দা উঠল, প্রথম ম্যাচে জয় পেল জায়ান ফ্যাশান; দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছেন ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী; দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছেন ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী; দেবিদ্বারে স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে প্রবাসীর বাড়িতে এক নারীর অবস্থান;

নওগাঁর গ্রাম-বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত বাঁশঝাড়;

  • Update Time : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১০ বার পঠিত



মোঃ ফিরোজ আহমেদ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ, মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই। কবি যতন্দ্রি মোহর বাগচির আবেগ ভরা লেখা এ কবিতার বাঁশ বাগান এক সময় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী সম্পদ ছিল। এবং চাষ করা হতো ব্যবসায়ীক ভাবে। যা অযত্ন আর অবহেলায় গড়ে উঠত অল্প খরচে। সেই বড় বড় বাঁশ ঝাড় আজ আর চোখের সামনে নেই। দেখা যেতো গ্রামে গ্রামে যে হারে বাঁশ ঝাড় তা এখন আর দেখা যায় না চোখে।
এক সময় বাংলার গ্রামঞ্চলের প্রসুতির নাড়ি কাটার জন্য ব্যবহৃত হত ধাঁরালো বাঁশের চিকন চাচ। এবং বাঁশ ছাড়া মৃত্যুর দাফনও হয় না। সে জন্যই বলা হতো জন্ম থেকে মৃত্যু র্পযন্ত বাঁশের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীর্কায। এছাড়া বাড়ি ঘর নির্মাণ, সবব্জির মাচা তৈরী, বেড়া দেওয়া, চারা গাছের খাঁচাসহ কুুটির শিল্পে ব্যবহৃত এই বাঁশ। আগের দিনে বাঁশ ঝাড় ছিল অহংকারের বিষয়। কোন বংশের লোকের কত বিঘা বাঁশ আছে সেটাই ছলি র্গভের বিষয়। এখন আর তা খুঁজে পাওয়া যায় না।এবং আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বনজ সম্পদ বাঁশ বাগান। এক সময় এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে বাঁশ কেটে বিক্রি করা হতো হাটে বাজারে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলের কুটির শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা তা ক্রয় করে নিয়ে যেতো। কুটির শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে এই দেশে কাগজ তৈরীতেও ব্যাপক অবদান ছিল। এখন বাঁশের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য কুঠির শিল্পও। যে বাঁশ বন্যা,বাদলে,গরীবের বাড়ি তৈরীতে ও ধনী-গরীব সকলের মৃত্যুতে প্রধান সহযোগী ছিল বাঁশ। সেই বাঁশ অযত্নে আর অবহেলায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এই উপজলো থেকে।
আগের দিনে অনেক পরিবারই ব্যবসায়ীক ভাবে বাঁশ ঝাড়ের খড়কুটা,ছায় এনে বাঁশ ঝাড়ের রনাবনো করতেন। এখন আর সেই পুরনো ঐতিহ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। এবং নেই বাঁশ বাগান বা আর তৈরী হয় না বাঁশের সাঁকো। এবং কুটির শিল্পের সাথে জড়িতরা বাঁশের অভাবে উক্ত পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে। বাঁশ ঝাড়ের এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার আগ্রাহে আর নেই বাগান মালিকদের। এছাড়া বাঁশের বিভিন্ন কাহিনীও রয়েছে, যেমন বাঁশ দিয়ে তৈরী হতো বাঁশি,আর সেই বাঁশির মাতাল করা সুরে মুগ্ধ হতো ছোট বড় সব শ্রেণীর মানব সমাজ। পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাঠি খেলাতে ব্যবহৃত হত বাঁশ দিয়েই তৈরী লাঠি।
বাগমারা উপজেলায় এক সময় প্রতিটি জমির মালিকদের ঐতিহ্যবাহী সম্পদ ছিল বাঁশ ঝাড়। আর আজ সেই বাঁশ প্রায় বিলুপ্তির পথে। বাঁশের ঝাড়গুলো নির্মূলভাবে কেটে বিনাশ করে সেখানে আম,জাম,লিচু,কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের বাগান তৈরী করা হয়েছে। এবং অবহেলায় বাঁশের ঝাড় গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে করে এমন অবহেলা চলতে থাকলে মানুষ মরে যাওয়ার পর কবরে যে বাঁশের চালি বা খাপাচি দেওয়ার জন্য যে বাঁশ দরকার হয় তাও পাওয়া যাবে কিনা এ অশংকা করছেন বাগমারা উপজেলার কিছু সচেতন মানুষজন। তবে বাঁশ ঝাড় টিকিয়ে রাখতে সরকারী ভাবে বিশেষ ভূিমকা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এখানকার র্সবস্তরের জনসাধারণ।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভা এলাকায় ৩ হাজার ৭ শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে বাঁশ বাগান রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews