বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
ভাণ্ডারিয়ায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ৩.২৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ,গ্রেপ্তার-২; সময়ের সিঁড়ি বেয়ে: ফুরিয়ে আসার বেলা; পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার; পিরোজপুরে ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২০ পিস; মাদক নির্মূল ও আধুনিক রাস্তাঘাট গড়ার প্রত্যয়ে গলাচিপার আমখোলা ইউনিয়নে মেম্বার প্রার্থী হৃদয় খান বাহাদুর; মহিলা ও শিশুবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, দেবিদ্বার বিএনপির অভিনন্দন; কাউখালীতে ডোবার পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু; শেরপুরে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত স্মার্ট ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার স্বাধিন চন্দ্র সরকারের; মাদক নির্মূল ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আব্দুল রহিমের গণসংযোগে জনতার ঢল; চট্টগ্রামের বায়েজিদ থেকে দুই মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ, ৩ দিনেও সন্ধান মেলেনি; কৃষিমন্ত্রীর মায়ের জানাজা বুধবার বেলা দুইটায় বিজয়পুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে; তথ্য গোপন করে একাধিক রিটের অভিযোগে কাজী ও আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা; কাউখালীতে কচুয়াকাঠী বেইলি সেতুর পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ; ভাঙ্গুড়ায় আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা; এনজিও ফোরাম দেবিদ্বার এর কমিটি গঠন আহ্বায়ক সাইফুল করিম, সদস্য সচিব এটিএম সাইফুল ইসলাম; শিক্ষক সংকটে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দুই সরকারি স্কুল; কাউখালীতে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেফতার; পাবনা-৩ আসনের এমপি মুহাম্মাদ আলী আছগার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত; গুমানি নদীর শাখা নদীতে জমজমাট নৌকা বাইচ, দর্শনার্থীদের ঢল; দেবিদ্বারে বাগমারা ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসায় শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত;

নওগাঁর গ্রাম-বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত বাঁশঝাড়;

  • Update Time : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৯ বার পঠিত



মোঃ ফিরোজ আহমেদ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ, মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই। কবি যতন্দ্রি মোহর বাগচির আবেগ ভরা লেখা এ কবিতার বাঁশ বাগান এক সময় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী সম্পদ ছিল। এবং চাষ করা হতো ব্যবসায়ীক ভাবে। যা অযত্ন আর অবহেলায় গড়ে উঠত অল্প খরচে। সেই বড় বড় বাঁশ ঝাড় আজ আর চোখের সামনে নেই। দেখা যেতো গ্রামে গ্রামে যে হারে বাঁশ ঝাড় তা এখন আর দেখা যায় না চোখে।
এক সময় বাংলার গ্রামঞ্চলের প্রসুতির নাড়ি কাটার জন্য ব্যবহৃত হত ধাঁরালো বাঁশের চিকন চাচ। এবং বাঁশ ছাড়া মৃত্যুর দাফনও হয় না। সে জন্যই বলা হতো জন্ম থেকে মৃত্যু র্পযন্ত বাঁশের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীর্কায। এছাড়া বাড়ি ঘর নির্মাণ, সবব্জির মাচা তৈরী, বেড়া দেওয়া, চারা গাছের খাঁচাসহ কুুটির শিল্পে ব্যবহৃত এই বাঁশ। আগের দিনে বাঁশ ঝাড় ছিল অহংকারের বিষয়। কোন বংশের লোকের কত বিঘা বাঁশ আছে সেটাই ছলি র্গভের বিষয়। এখন আর তা খুঁজে পাওয়া যায় না।এবং আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বনজ সম্পদ বাঁশ বাগান। এক সময় এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে বাঁশ কেটে বিক্রি করা হতো হাটে বাজারে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলের কুটির শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা তা ক্রয় করে নিয়ে যেতো। কুটির শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে এই দেশে কাগজ তৈরীতেও ব্যাপক অবদান ছিল। এখন বাঁশের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য কুঠির শিল্পও। যে বাঁশ বন্যা,বাদলে,গরীবের বাড়ি তৈরীতে ও ধনী-গরীব সকলের মৃত্যুতে প্রধান সহযোগী ছিল বাঁশ। সেই বাঁশ অযত্নে আর অবহেলায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এই উপজলো থেকে।
আগের দিনে অনেক পরিবারই ব্যবসায়ীক ভাবে বাঁশ ঝাড়ের খড়কুটা,ছায় এনে বাঁশ ঝাড়ের রনাবনো করতেন। এখন আর সেই পুরনো ঐতিহ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। এবং নেই বাঁশ বাগান বা আর তৈরী হয় না বাঁশের সাঁকো। এবং কুটির শিল্পের সাথে জড়িতরা বাঁশের অভাবে উক্ত পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে। বাঁশ ঝাড়ের এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার আগ্রাহে আর নেই বাগান মালিকদের। এছাড়া বাঁশের বিভিন্ন কাহিনীও রয়েছে, যেমন বাঁশ দিয়ে তৈরী হতো বাঁশি,আর সেই বাঁশির মাতাল করা সুরে মুগ্ধ হতো ছোট বড় সব শ্রেণীর মানব সমাজ। পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাঠি খেলাতে ব্যবহৃত হত বাঁশ দিয়েই তৈরী লাঠি।
বাগমারা উপজেলায় এক সময় প্রতিটি জমির মালিকদের ঐতিহ্যবাহী সম্পদ ছিল বাঁশ ঝাড়। আর আজ সেই বাঁশ প্রায় বিলুপ্তির পথে। বাঁশের ঝাড়গুলো নির্মূলভাবে কেটে বিনাশ করে সেখানে আম,জাম,লিচু,কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের বাগান তৈরী করা হয়েছে। এবং অবহেলায় বাঁশের ঝাড় গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে করে এমন অবহেলা চলতে থাকলে মানুষ মরে যাওয়ার পর কবরে যে বাঁশের চালি বা খাপাচি দেওয়ার জন্য যে বাঁশ দরকার হয় তাও পাওয়া যাবে কিনা এ অশংকা করছেন বাগমারা উপজেলার কিছু সচেতন মানুষজন। তবে বাঁশ ঝাড় টিকিয়ে রাখতে সরকারী ভাবে বিশেষ ভূিমকা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এখানকার র্সবস্তরের জনসাধারণ।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভা এলাকায় ৩ হাজার ৭ শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে বাঁশ বাগান রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews