
ফজরের আজানের আগে ফের চুরি,বিশেষ পাহারা ও পুলিশের টহল জোরদারের দাবি”
মোঃ নুরুজ্জামান খোকন;
কাউখালী(পিরোজপুর);
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৫ নম্বর শিয়ালকাঠি ইউনিয়নে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাশাপাশি দুটি বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনায় এলাকায় চোর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গভীর রাতে একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোররাতে ইউনিয়নের একই এলাকার বাসিন্দা মো. মোশারফ খানের বসতঘরে সিঁধ কেটে চুরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ফজরের আজানের কিছুক্ষণ আগে আনুমানিক রাত ৪টার দিকে চোরেরা ঘরের পেছনের অংশে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের বিভিন্ন মালামাল তছনছ করে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এর মাত্র দুই দিন আগে একই এলাকার পাশের বাড়ির বাসিন্দা মো.আফজাল খানের ঘরেও চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় চোরেরা ঘরে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাশাপাশি দুটি বাড়িতে একই ধরনের চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয় এবং একই চক্র এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন,রাত গভীর হওয়ার পর অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় চোরেরা সুযোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে ভোররাতের সময়টিকে তারা নিরাপদ মনে করে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চুরি প্রতিরোধে এলাকাবাসী রাতের বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা, পাড়া-মহল্লায় পালাক্রমে পাহারা,গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বিষয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে রাতে দরজা-জানালা ও ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরিচিত ব্যক্তির গতিবিধির ওপর নজর রাখা এবং কোনো সন্দেহজনক ঘটনা দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি,পরপর দুটি চুরির ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কাউখালীর শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতের পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করতে হবে,যাতে চোরচক্র আর কোনো বাড়িতে হানা দেওয়ার সুযোগ না পায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য,দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সমন্বিত বিশেষ পাহারা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের দাবি উঠেছে।