
মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী
লালমনিরহাট প্রতিনিধি।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে শিক্ষককে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন জব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধাওয়া করে স্থানীয় একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
আজ বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে কালীগঞ্জ থানাধীন মদাতী ইউনিয়নের তালুক শাখাতী মৌজার হাজীপাড়া মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষার্থী মোস্তাকিনসহ ৫-৬ জন শিক্ষার্থী জব্বারিয়া মাদ্রাসার মাঠে ফুটবল খেলে। খেলার সময় তারা মাদ্রাসার নূরানী ক্লাসের দরজায় লাথি মেরে ক্ষতি করে। একই রাতে ওই শ্রেণিকক্ষে থাকা পানির পাম্প (মর্টার) চুরি হয়। পরদিন শনিবার সকালে বিষয়টি মাদ্রাসার নূরানী শ্রেণির শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান সুপারকে জানান। পরবর্তীতে রোববারের ক্লাসে শিক্ষার্থীরা আসলে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ঘটনার সত্যতা পেয়ে মোস্তাকিনসহ কয়েকজনকে মাদ্রাসার বারান্দায় কান ধরে ওঠবস করান।
এরই জেরে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে মাদ্রাসায় আসার পথে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম বাবু ও তার মা সোহাগী বেগম তার পথরোধ করেন এবং তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মাদ্রাসায় পৌঁছে সহকর্মীদের বিষয়টি জানালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লাস বর্জন করেন এবং অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানান। এ সময় অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম বাবু ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া দেয়। প্রাণভয়ে তিনি মাদ্রাসার সংলগ্ন আলী আকবরের বাড়িতে আশ্রয় নিলে শিক্ষার্থীরা বাড়িটি ঘিরে ফেলে।
পরিস্থিতি অবনতি হলে জব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার ও কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রুহুল আমিন বিষয়টি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অফিসার ইনচার্জ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম বাবুকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে কালীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।