
মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ, ক্ষোভ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে;
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি
জামালপুরের সিংহজানী খাদ্য গুদামের স্টোর ম্যানেজমেন্ট অফিসার (এসএমও) ইসরাত আহমেদকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরাত আহমেদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য অধিদপ্তরে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। চাকরিজীবনে তিনি দুর্নীতি, অনিয়ম বা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত হননি এবং কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেননি।
তার অভিযোগ, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে অর্থ দাবি করে আসছিল। তাদের অনৈতিক দাবি মেনে না নেওয়ায় ওই মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক ও দাপ্তরিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংবাদিককে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সিংহজানী খাদ্য গুদামের এসএমও ইসরাত আহমেদ বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অনলাইন ও সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগসংবলিত একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব সংবাদে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো তার ভাষ্য অনুযায়ী ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমূলক ও সম্মানহানিকর’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সামাজিক ও দাপ্তরিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
ইসরাত আহমেদের দাবি, তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কোনো সাংবাদিক তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেননি কিংবা মুঠোফোনে বক্তব্য নেননি। যথাযথ তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া একটি মহল কথিত পরকীয়া ও বিভিন্ন ‘ট্যাপ’ সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন ইসরাত আহমেদ। তার দাবি, কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
ইসরাত আহমেদ বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তার সামাজিক, পারিবারিক ও দাপ্তরিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি শিগগিরই আইনের আশ্রয় নেবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি অধিদপ্তরে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এ কারণে একটি অসাধু মহল হিংসাত্মকভাবে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সময়ে হুমকিরও সম্মুখীন হতে হয়েছে।’
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে ইসরাত আহমেদ বলেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পারিবারিকভাবেই তারা প্রতিষ্ঠিত।
তিনি তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান।
তবে প্রকাশিত সংবাদগুলোতে যেসব অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।