
নেছারাবাদে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ৩০ প্যাকেট দুধ উধাও,২৭ প্যাকেট ফেরত দেওয়ার দাবি;
পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির দুধ চুরির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা মো. নাদিম মাহমুদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ ছাত্রদলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে বহিষ্কৃত নাদিম মাহমুদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত নাদিম মাহমুদ নেছারাবাদ উপজেলার ১নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
১ অক্টোবর(বৃহস্পতিবার)রাতে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহিনের অনুমোদনক্রমে দলীয় প্যাডে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসান।
৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে অভিযোগ স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,গত শুক্রবার নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা ৩০ প্যাকেট দুধ চুরির অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি পরবর্তী বুধবার জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা খাবার বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পরে ওই দিন সকালে দুধ নেওয়ার অভিযোগ ওঠা নাদিম মাহমুদ ও তাঁর দুই বন্ধু বিদ্যালয়ে গিয়ে ৩০ প্যাকেটের মধ্যে ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দেন বলে জানা গেছে।
এ সময় নাদিম মাহমুদ দুধ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী,তাঁরা তিন প্যাকেট দুধ খেয়েছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়,শিশুদের খাবার এবং কঠোর দলীয় ব্যবস্থা গ্রহন,ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের নজরে আসে। এরপর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নাদিম মাহমুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বহিষ্কৃত ব্যক্তির সঙ্গে সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের।
শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা খাবার নিয়ে এমন অভিযোগকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে, যে খাবার অসহায় শিশুদের পুষ্টির জন্য বরাদ্দ,সেটি কীভাবে বিদ্যালয় থেকে বাইরে গেল এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।