শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
পাড়ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নে যুবদল নেতা মোঃ শামীম মোল্লার বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন; গাজা থেকে হরমুজ, ইরান থেকে কাশ্মীর—ট্রাম্পের যুদ্ধনীতিতে নতুন ভূরাজনৈতিক সংকট! কালিয়া হরিপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল কাদের সরকারের উন্নয়নের অঙ্গীকার; কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ২৯৯, ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা; নওগাঁর আত্রাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর উদ্বোধন; পদ্মা অয়েলের দুই কর্মকর্তাকে জড়িয়ে তেল চুরির অপপ্রচার; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল কক্স বাজার জেলা কমিটির সদস্য হলেন মোঃ ফাইসেল; তেঁতুলিয়ায় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় সংবাদ সম্মেলন; নওগাঁর মহাদেবপুরে টাকা ছিনতাই,কৃষকদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩; মোংলা বন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; আত্রাইয়ের মহাসড়কে গাছের ডাল ফেলে ডাকাতির চেষ্টা,দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১; পিরোজপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার-৫; পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার; আত্রাইয়ে জাতীয় বিল্পব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ; লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ ও গুণীজন সম্মাননা; কাউখালী উপজেলা মসজিদ সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে বৃদ্ধের মৃত্যু; মোহনপুরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ও সুফল নিয়ে ‘ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টেশন’ অনুষ্ঠিত; নওগাঁর আত্রাইয়ে শিশুদের মাঝে পবিত্র কোরআন সবক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত; কুমিল্লায় পুকুর থেকে নিখোঁজ কাশ্মীরি মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার; কবিতা -ভালো থেকো; বেলকুচিতে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার ১ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা; ; বই ও বৃক্ষপ্রেমী ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা; দাউদকান্দিতে বাসে মিলল ২০হাজার ইয়াবা, আটক -১; কাউখালীতে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা; প্রেস রিলিজ ; জাতীয় যুব পুরস্কার অর্জন করলেন আত্রাইয়ের কৃষিবিদ সামিউল ইসলাম; দেবিদ্বারে জমি বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ; মুক্তারপুরে ডিবির অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার; ব্রাহ্মণগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০ মেধাবী-দরিদ্র শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াল ৯৪ ব্যাচের প্রাক্তনরা; ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিক ইউনিয়নের সৌজন্য সাক্ষাৎ; গোয়ালীমান্দ্রায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার; বরুড়ায় ২৭ মামলার আসামি মনির ডাকাত ও মাদক মামলার আসামি ছেলে গ্রেপ্তার; আত্রাইয়ে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ; ভাঙ্গুড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির মতবিনিময়; মঠবাড়ীয়ার সাপলেজায় একইসাথে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি; বিসিআইসির শরীফুল আলমকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র; পিরোজপুরে পৈত্রিক ভিটা জবরদখলের পাঁয়তারা ; ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিক অধিকার পরিষদ; কাউখালীতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন:যুব র‍্যালি; তেঁতুলিয়ায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন;
Title :
পাড়ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নে যুবদল নেতা মোঃ শামীম মোল্লার বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন; গাজা থেকে হরমুজ, ইরান থেকে কাশ্মীর—ট্রাম্পের যুদ্ধনীতিতে নতুন ভূরাজনৈতিক সংকট! কালিয়া হরিপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল কাদের সরকারের উন্নয়নের অঙ্গীকার; কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ২৯৯, ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা; নওগাঁর আত্রাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর উদ্বোধন; পদ্মা অয়েলের দুই কর্মকর্তাকে জড়িয়ে তেল চুরির অপপ্রচার; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল কক্স বাজার জেলা কমিটির সদস্য হলেন মোঃ ফাইসেল; তেঁতুলিয়ায় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় সংবাদ সম্মেলন; নওগাঁর মহাদেবপুরে টাকা ছিনতাই,কৃষকদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩; মোংলা বন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; আত্রাইয়ের মহাসড়কে গাছের ডাল ফেলে ডাকাতির চেষ্টা,দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১; পিরোজপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার-৫; পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার; আত্রাইয়ে জাতীয় বিল্পব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ; লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ ও গুণীজন সম্মাননা; কাউখালী উপজেলা মসজিদ সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে বৃদ্ধের মৃত্যু; মোহনপুরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ও সুফল নিয়ে ‘ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টেশন’ অনুষ্ঠিত; নওগাঁর আত্রাইয়ে শিশুদের মাঝে পবিত্র কোরআন সবক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত; কুমিল্লায় পুকুর থেকে নিখোঁজ কাশ্মীরি মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার; কবিতা -ভালো থেকো;

গাজা থেকে হরমুজ, ইরান থেকে কাশ্মীর—ট্রাম্পের যুদ্ধনীতিতে নতুন ভূরাজনৈতিক সংকট!

  • Update Time : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত




মোঃ আঃ কুদ্দুস,সাংবাদিক ও মানবাধিকার কমী;

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক ধাক্কা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতি, সামরিক ব্যয় ও বৈদেশিক নীতির ওপর রাজনৈতিক নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এই নির্বাচনী ফলাফল অবিলম্বে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন করবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।

যুদ্ধের রাজনীতি বনাম মানবতার বাস্তবতা

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এখন আর আঞ্চলিক সংকটে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমেই বিপন্ন হচ্ছে। ফিলিস্তিনের গাজায় মানুষ এখনো খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় ও সুপেয় পানির সংকটে রয়েছে। জাতিসংঘের ১৫ অক্টোবরের মানবিক পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বন্যার ঝুঁকিতে থাকা আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে। প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মানবিক খাদ্যসহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

এ বাস্তবতা প্রমাণ করে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেই মানুষের জীবন স্বাভাবিক হয় না। প্রয়োজন নিরাপত্তা, পুনর্বাসন, মানবিক সহায়তা এবং রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা।

ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চল: সংঘাতের বিস্তৃত ঝুঁকি

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ফেলেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুনে সমঝোতা হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও মাইন বিস্ফোরণের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করেছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

তেলের দাম বাড়লে শুধু পশ্চিমা দেশ নয়, বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইরানের জনগণও যুদ্ধের ভয়াবহ অর্থনৈতিক মূল্য দিচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, নিষেধাজ্ঞা এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা। ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নের পাশাপাশি দেশটির জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নও আন্তর্জাতিক আলোচনায় থাকা জরুরি।

ফিলিস্তিন: রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার

ফিলিস্তিন সংকট শুধু ইসরাইল-ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের বিরোধ নয়; এটি একটি জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন।

দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিরা স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি, নিজস্ব ভূখণ্ডে বসবাসের অধিকার এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক বিপর্যয় সেই সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইলপন্থি নীতির কারণে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা, অস্ত্র সরবরাহ এবং গাজার পুনর্গঠন নিয়ে নতুন বিতর্ক ও নজরদারি তৈরি করতে পারে।

তবে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার প্রশ্নে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কার্যকর কূটনীতি, দখলদারিত্বের অবসান এবং একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধান।

জর্ডান: আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কঠিন পরীক্ষা

জর্ডান ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সংবেদনশীল রাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা দেশটিকে জটিল অবস্থানে রেখেছে।

গাজা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জর্ডানের ওপর রাজনৈতিক ও মানবিক চাপ বাড়বে। বিশেষ করে পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা জর্ডানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগ।

অন্যদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবও দেশটির নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। ফলে জর্ডানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষার ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।

আফগানিস্তান: যুদ্ধের পাশাপাশি মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট

আফগানিস্তান দীর্ঘ যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার অধীনে বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অংশগ্রহণের অধিকার গুরুতরভাবে সীমিত।

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আফগানিস্তানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতিসংঘের হিসাবে ২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইরান ও পাকিস্তান থেকে প্রায় ১৩ লাখ ৬৬ হাজার আফগান নাগরিক দেশে ফিরেছেন। তাঁদের বড় অংশকে সীমিত কর্মসংস্থান, খাদ্যসংকট ও দুর্বল অবকাঠামোর মধ্যে নতুন করে জীবন শুরু করতে হচ্ছে।

অতএব, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আফগানিস্তানের শরণার্থী, বাণিজ্য ও মানবিক সংকট আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভারত ও জম্মু-কাশ্মীর: আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন ও আঞ্চলিক রাজনীতি

ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রভাব ভারতের ওপরও পড়ছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানি, প্রবাসী ভারতীয়দের কর্মসংস্থান এবং ইরানের চাবাহার বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতকে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে। ফলে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে ভারত-শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল। ২০১৯ সালে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের পর অঞ্চলটির রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন, নাগরিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

কাশ্মীরের মানুষের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে আত্মনিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক অধিকার ও মর্যাদার দাবি জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও অঞ্চলটির নাগরিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইরান ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে কাশ্মীরের জনগণের একটি অংশের সংহতি প্রকাশের বিষয়টিও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে কাশ্মীরের পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক পরিবর্তন ঘটবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও মানবাধিকারকে নিরাপত্তার প্রশ্নের আড়ালে উপেক্ষা করা হলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির দ্বিমুখী বাস্তবতা

বর্তমান বিশ্বরাজনীতির একটি বড় বৈপরীত্য হলো, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর অবস্থান সব সময় এক রকম থাকে না।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, কাশ্মীরের রাজনৈতিক অধিকার, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আফগান জনগণের মানবিক ও নাগরিক অধিকার—প্রতিটি বিষয় আলাদা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত।

এসব প্রশ্নকে এক করে দেখা ঠিক নয়। কিন্তু একটি মৌলিক নীতি সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য—সাধারণ মানুষের জীবন, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা কোনো ভূরাজনৈতিক স্বার্থের কাছে গৌণ হতে পারে না।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি কোনো অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করে, অন্য অঞ্চলের মানুষের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করতে হবে। নির্বাচিত রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী মানবাধিকারের ব্যাখ্যা পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ট্রাম্পের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় সামরিক ব্যয়, ইরান যুদ্ধ, ইসরাইলকে সহায়তা এবং বৈদেশিক নীতির ওপর নজরদারি বাড়বে।

তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাংবিধানিক বাস্তবতার কারণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হলেই যুদ্ধ বন্ধ হবে না।

এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সামরিক শক্তি দিয়ে সংঘাত মোকাবিলা, নাকি আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করা।

বিশেষ করে পাকিস্তান, কাতার ও ওমানের মতো মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রগুলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উপসংহার: ক্ষমতার লড়াই নয়, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারই হোক অগ্রাধিকার

গাজা থেকে হরমুজ, ইরান থেকে কাশ্মীর—বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে: যুদ্ধের প্রভাব কখনো যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানায় আটকে থাকে না।

এর অভিঘাত পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর।

বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিলেও ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইরান ও কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি একটি জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক মর্যাদাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব কি শেষ পর্যন্ত শক্তির রাজনীতি থেকে ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দিকে এগোবে, নাকি ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থের সংঘাতে সাধারণ মানুষের জীবন আরও বিপন্ন হবে—এ প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বিশ্বরাজনীতির গতিপথ।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম,তথ্য,ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews