স্টাফ রিপোর্টার, হাফিজুর রহমান হাবিব:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা ১৯৬২ সালের রেকর্ডীয় ৬৪ শতক জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাহেব আলী গংসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে জমি রক্ষা ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের মাথাফাটা বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মোছাম্মদ তহুরা বেগম, রবিউল ইসলাম, মাথাফাটা গ্রামের বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান, সুরুজ আলীসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, মাথাফাটা মৌজার ৬৬৩ নম্বর দাগে ৬৪ শতক জমি ১৯৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ী তাঁদের মালিকানাধীন এবং দীর্ঘ প্রায় ৬৮ বছর ধরে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
কিন্তু সম্প্রতি সাহেব আলী গংসহ কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য তহুরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জমির কাগজপত্র ও আইনগত বিষয় উপেক্ষা করে পেশিশক্তির মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করা হলে তা আইনের শাসনের পরিপন্থী। তাঁরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ প্রতিকার চান।
পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, জমি নিয়ে তাঁরা কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চান না। জমির প্রকৃত মালিকানা ও রেকর্ডপত্র যাচাই করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তাঁদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে জমিতে অবৈধ প্রবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দখলের অপচেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১৯৬২ সালের রেকর্ডীয় ৬৪ শতক জমির কাগজপত্র যাচাই, জবরদখলের চেষ্টা বন্ধ, পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পরিবারটি জানায়, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জমির অধিকার ফিরে পেতে চান।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।