মোঃ আঃ কুদ্দুস মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মনোহরদীতে থামছে না গরু চুরির ঘটনা। এবার এক রাতেই পাশাপাশি চারটি গোয়ালঘর থেকে আটটি গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও মনোহরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে গোয়ালঘর থেকে একের পর এক গরু চুরি হলেও চোরচক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। এতে গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মনোহরদী পৌরসভার বাসিন্দা ও খামারি মো. জাহিদুল ইসলাম প্রধান বলেন, চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চারটি গোয়ালঘর থেকে আটটি গরু চুরি হয়েছে। তিনি নিজেও একজন খামারি উল্লেখ করে বলেন, এভাবে গরু চুরি হতে থাকলে খামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গবাদিপশু পালনের আগ্রহ কমে যাবে। চুরির ঘটনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি।
ভুক্তভোগী শহিদুল্লাহ জানান, এর আগেও উপজেলার নারান্দী, শুকুন্দী, কাছিকাটা, কুতুবদী, অর্জুনচর বাঘবের,ও চন্দনবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনায় তাঁর একটি, নূরুল ইসলামের দুটি, সঞ্জয় চন্দ্র বিশ্বাসের দুটি এবং মোস্তফার তিনটি গরু চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
শহিদুল্লাহ বলেন, “আমরা সবাই এখন অসহায় ও নিঃস্ব। গরু হারিয়ে পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতে গোয়ালঘরে গরু রেখেও নিশ্চিন্তে ঘুমানো যাচ্ছে না। গরু চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত নূরুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, তাঁর গরুগুলো নেই। পরে আশপাশে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, পাশাপাশি চারটি গোয়ালঘর থেকে মোট আটটি গরু চুরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। গরুগুলোই ছিল আমাদের একমাত্র সম্বল। এগুলো হারিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। প্রশাসন সহযোগিতা করলে আবারও দু-চারটি গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব।”
এদিকে, মনোহরদীতে একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। রাতের বেলায় গোয়ালঘরের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে চুরি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, চোরচক্রকে শনাক্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গরু চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে চুরি হওয়া গরু উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।