
শহিদুল ইসলাম,রাঙামাটি প্রতিনিধি ;
রাঙামাটির নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে মানবিক সহায়তা এবং সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দ্বিমুখ্যাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় নানিয়ারচর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, পিএসসির নির্দেশনায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নানিয়ারচর জোনের মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম। এ সময় লেফটেন্যান্ট শোয়াইব রহমান সাবিলসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের সুশিক্ষিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চা একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আদর্শ মানুষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে নানিয়ারচর জোন সবসময় স্থানীয় জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাবে।
এ সময় তিনি শিক্ষকদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরাই জাতি গঠনের মূল কারিগর। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা শিক্ষা উপকরণ ও সৌজন্য উপহার গ্রহণ করেন। তাঁরা এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নানিয়ারচর জোনের এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগণ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।