
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি; গণমাধ্যমের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ;
ত্রিশালে এজমালি জমিতে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ, রবি ও ইডটকোর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবিভক্ত পৈতৃক জমিতে শরিকের সম্মতি ছাড়া মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে রবি আজিয়াটা ও ইডটকো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আইনি নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ৪ নম্বর কানিহারী ইউনিয়নের দেওপাড়া মৌজায় নামজারিকৃত ও খাজনা পরিশোধিত পৈতৃক এজমালি জমিতে শরিকের লিখিত সম্মতি ছাড়াই মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি ও তাদের অবকাঠামো অংশীদার ইডটকো বাংলাদেশ কোং লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. নাজমুন নাহার নামের এক বয়োবৃদ্ধ নারী তাঁর জমির স্বত্ব রক্ষা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় এবং নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ত্রিশাল উপজেলার দেওপাড়া মৌজার ৩৫৫ নম্বর দাগে অবস্থিত জমিটির অনলাইন নামজারি খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০০০২। জমিটি এখনো শরিকদের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বণ্টন না হওয়ায় এজমালি অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অংশীদারের লিখিত সম্মতি বা অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়াই জমিতে ফসল নষ্ট করে টাওয়ার নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জজ কোর্টের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে রবি আজিয়াটা ও ইডটকো বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে ৫০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নির্মিতব্য টাওয়ার অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো নোটিশের রসিদ নম্বর ২৫৪ ও ২৫৫ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) পোর্টালে ০১৭১২২৩৩২১৪০০০১ নম্বর ট্র্যাকিংয়ের অধীনে অভিযোগ দাখিল এবং বিটিআরসির প্রশাসন বিভাগেও অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বর্তমান অবস্থা ও তদন্তের অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগকারীর দাবি, আইনি নোটিশ পাঠানো ও সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দায়েরের পর দিনের বেলায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখলেও রাতের বেলায় জেনারেটর ও হ্যালোজেন লাইট ব্যবহার করে পাইলিংয়ের কাজ চালানো হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কর্মরত শ্রমিকদের বক্তব্যের ভিত্তিতে নির্মাণাধীন স্থাপনাটি রবি আজিয়াটার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি দুটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকল্পস্থলে কোম্পানিগুলোর পরিচয়সংবলিত সাইনবোর্ড না থাকা এবং ই-মেইলে দায় অস্বীকারের মাধ্যমে প্রকল্পের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকল্পটির মালিকানা, পরিচালনা ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ ও অবিভক্ত এজমালি জমিতে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, দখল, সংশ্লিষ্ট শরিকদের অধিকার এবং প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিটিআরসির টাওয়ার শেয়ারিং নির্দেশিকা, সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের শর্ত এবং প্রচলিত ভূমি আইনের প্রযোজ্য বিধান পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা
একজন বয়োবৃদ্ধ নারীর সম্পত্তির অধিকার ও জীবিকা রক্ষার স্বার্থে অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির মালিকানা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
একই সঙ্গে রবি আজিয়াটা পিএলসি, ইডটকো বাংলাদেশ কোং লিমিটেড, বিটিআরসি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
প্রেরক:
ভুক্তভোগীর পক্ষে
মোছা. নাজমুন নাহার
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
জাতীয পরিচয় পত্র(NID)নং-৬৮৮১৫৯২৪০৩
মোবাইল -০১৭১২২৩৩২১৪