
১৬টি ডিও লেটারে দলীয় ব্যক্তি মাত্র ৩ জন, সুপারিশপত্রের অপব্যবহার ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ; প্রধানমন্ত্রীর ও কৃষিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে সরকারি সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দলীয় ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করা, ডিও লেটার বা সুপারিশপত্রের অপব্যবহার এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারা। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারী নেতাদের দাবি, দেবিদ্বার উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় ১৬টি ডিও লেটারের বিপরীতে মাত্র তিনজন দলীয় ব্যক্তি সার ডিলার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। বাকি সুপারিশপত্রগুলো কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, কারা এর সুবিধা পেয়েছেন এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শাহজাহান মোল্লা এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ
সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শাহজাহান মোল্লা এমপির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে সাক্ষাতের তারিখ, আলোচনার বিষয়বস্তু এবং এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে কোনো সিদ্ধান্ত বা বক্তব্যের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না গেলেও সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
১৬টি ডিও লেটার নিয়ে প্রশ্ন
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা সার ডিলার নিয়োগে ১৬টি ডিও লেটারের বিপরীতে মাত্র তিনজন দলীয় ব্যক্তি মনোনীত হওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন বলেও জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী নেতাদের ভাষ্য, সুপারিশপত্রগুলো কাদের নামে দেওয়া হয়েছিল, কারা সেগুলোর ভিত্তিতে ডিলারশিপ পেয়েছেন এবং দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেকে কেন সুযোগ পাননি—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।
তাঁদের মতে, ডিও লেটার গ্রহণকারীদের পরিচয়, সুপারিশের তালিকা, আবেদনকারীদের যোগ্যতা এবং চূড়ান্ত নিয়োগের নথি যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
সুপারিশপত্রের অপব্যবহার ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
দেবিদ্বারের বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, সার ডিলার নিয়োগে ব্যবহৃত ডিও লেটার বা সুপারিশপত্রের অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে সুপারিশপত্র বিক্রি করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগকারী নেতাদের দাবি, এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে দলের দুর্দিনে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়ে থাকতে পারেন। তবে অর্থ লেনদেন বা সুপারিশপত্র বিক্রির অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই কাউকে দায়ী করার আগে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সার ডিলার নিয়োগে কোনো আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা সুপারিশপত্রের অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনানুগভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারা।
তাঁদের মতে, কারা ডিও লেটার নিয়েছেন, কাদের নামে সুপারিশ করা হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় কারা স্থান পেয়েছেন এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
দেবিদ্বারে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী নেতারা। একই সঙ্গে কৃষিমন্ত্রী, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ ছাড়া বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া ও মোস্তাক মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির বিভিন্ন দিক আরও স্পষ্ট হবে।
অনিয়ম প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলের দাবি
অভিযোগকারী নেতাদের দাবি, তদন্তে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের ডিলারশিপ বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নীতিমালা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীদের সুযোগ দিতে হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার ডিও লেটার নিয়ে কেউ প্রতারণা করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নেতাকর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা কৃষি কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
কৃষি বিভাগের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ
সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীদের যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং সুপারিশপত্র নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, সে বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতা এবং অভিযোগে যাঁদের নাম বা ভূমিকার প্রসঙ্গ এসেছে, তাঁদের বক্তব্যও প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, নিয়োগের নথিপত্র এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা জরুরি।
দেবিদ্বারে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ডিও লেটারের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং যোগ্য আবেদনকারীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারা।