
মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
আসন্ন ৫ নং ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় বইছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক নির্বাচনী হাওয়া। এ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থনে চেয়ারম্যান পদে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও গণমানুষের সৎ নেতা মোহাম্মদ রাসেল রেজা। ‘স্মার্ট বাংলাদেশের গর্বিত অংশীদার’ হিসেবে ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন পরিষদকে একটি দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত আদর্শ ইউনিয়নে রূপান্তরিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের আস্থার প্রতীক
ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষ, কৃষক ও শ্রমিকদের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছেন মোহাম্মদ রাসেল রেজা। মেহনতী মানুষের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের যথাযোগ্য মূল্যায়ন এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি নিজেকে সবসময় তাদেরই একজন মনে করেন।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন মোহাম্মদ রাসেল রেজা। হিন্দু, মুসলিমসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ইউনিয়নের সকল স্তরের মানুষ তাকে সমানভাবে ভালোবাসেন ও শ্রদ্ধা করেন। সামাজিক বা ধর্মীয় যেকোনো আয়োজনে তার উপস্থিতি ও সর্বাত্মক সহযোগিতা সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে পুরো ইউনিয়নের মানুষ তাকে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক নেতা হিসেবেই বিবেচনা করেন।
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে মানবিক ভাবনা
সমাজের অবহেলিত, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের প্রতি রয়েছে তার বিশেষ দরদ। নির্বাচনে জয়ী হলে সরকারি সকল ধরনের ভাতা—যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা—কোনো প্রকার ঘুষ, স্বজনপ্রীতি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ছাড়াই প্রকৃত পাওয়ার যোগ্য মানুষদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি অবহেলিত এসব মানুষের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে কল্যাণমূলক তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
এলাকার উন্নয়ন: মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও শ্মশান
এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে মোহাম্মদ রাসেল রেজা দীর্ঘদিন ধরেই অবদান রেখে আসছেন। ইউনিয়নের প্রতিটি মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং আধুনিকায়নে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সাথে মুসলিম সম্প্রদায়ের কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কাজ করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।
কৃষক ও কৃষি খাত নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা
কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন রাসেল রেজা। ন্যায্য মূল্যে বীজ, সার ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, উন্নত কৃষি প্রযুক্তির সুবাতাস প্রতিটি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সরকারি সহযোগিতা পাওয়ার ব্যবস্থা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ ভাবনায় রাসেল রেজা
দিনমজুর ও মেহনতী শ্রমিকদের কাজের সুপরিবেশ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে তিনি বদ্ধপরিকর। শ্রমিক পরিবারগুলোর চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার, যাতে কোনো শ্রমিকের সন্তান অর্থাভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।
যুবসমাজ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
তরুণ ও যুবসমাজকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মনে করেন মোহাম্মদ রাসেল রেজা। যুবসমাজকে কর্মক্ষম, দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তুলতে খেলাধুলা, কারিগরি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তিনি।
একই সাথে মাদকের বিরুদ্ধে তার অবস্থান শতভাগ কঠোর ও আপসহীন। ইউনিয়ন থেকে মাদক ব্যবসা, সেবন ও কিশোর গ্যাং কালচার চিরতরে নির্মূল করে তরুণদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার কথা জানান তিনি।
জনগণের অনুভূতি ও সাক্ষাৎকার
কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন: “আমরা মাঠে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলাই, কিন্তু কষ্টের দাম পাই না। রাসেল রেজা ভাই সবসময় আমাদের খোঁজখবর রাখেন। আমরা বিশ্বাস করি, উনি চেয়ারম্যান হলে কৃষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ হবে এবং সার-বীজের জন্য কোনো কষ্ট করা লাগবে না। আমরা ওনাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।”
বয়স্ক মহিলা আসমা বলেন: “বাবা, রাসেল রেজা খুব ভালো মনের মানুষ। বিপদে-আপদে যেকোনো দরকারে ডাকলে ওনাকে কাছে পাওয়া যায়। আমাগো মতো গরীব-দুঃখী ও বয়স্ক মানুষের খেয়াল উনি যেমন রাখেন, এমন মানুষই আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দরকার।”
চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ রাসেল রেজার বক্তব্য
নিজের লক্ষ্য ও প্রত্যাশা নিয়ে মোহাম্মদ রাসেল রেজা বলেন:
”আমি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। স্মার্ট বাংলাদেশের সুফল ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা, চিকিৎসা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ার পাশাপাশি আমার ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন শান্তিতে বাস করতে পারে এবং কোনো অসহায় মানুষ যেন অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই হবে আমার পরিষদের মূল কাজ। আমি আমার ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, আশীর্বাদ ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।”