সম্পাদকীয় মতামত;
সাংবাদিকদের হেনস্তা, অপমান ও পেশাগত বাধার পেছনে অনেক সময় কিছু সাংবাদিকের কর্মকাণ্ডও দায়ী থাকে—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সব ক্ষেত্রে সাংবাদিকরাই দায়ী, এমনটি বলাও যুক্তিসংগত নয়।
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এই পেশার মূল শক্তি সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থ। কিন্তু যখন কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্যকে অনৈতিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করেন, তখন পুরো সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
একজন সাংবাদিকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় অনেক সময় অন্য সাংবাদিকদেরও বহন করতে হয়। সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয় অবিশ্বাস। আর এই অবিশ্বাসকে পুঁজি করে অসাধু ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহল প্রকৃত সাংবাদিকদেরও হেনস্তা করার সাহস পায়।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক হিংসা, দলাদলি, পেশাগত প্রতিযোগিতার নামে বিরোধ এবং একে অপরকে হেয় করার প্রবণতা। কোনো সাংবাদিক বিপদে পড়লে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে কেউ কেউ নীরব থাকেন, আবার কেউ কেউ পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন। এতে সাংবাদিকদের ঐক্য দুর্বল হয় এবং অন্যায়কারীরা সুযোগ পায়।
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো সাংবাদিকের অপরাধের দায় পুরো সাংবাদিক সমাজের নয়। একইভাবে, সাংবাদিক পরিচয়ধারী কেউ অন্যায় করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি সত্য প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি করা হলে তারও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের নিজেদের পেশার মর্যাদা রক্ষায় আগে আত্মসমালোচনা করতে হবে। প্রকৃত সাংবাদিক ও অপসাংবাদিকতার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করতে হবে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতা, পেশাগত দক্ষতা ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকের কলম যেন কারও ব্যক্তিগত স্বার্থের হাতিয়ার না হয়; বরং তা হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী মাধ্যম।
শেষ কথা হলো— সাংবাদিকদের হেনস্তা বন্ধ করতে হলে একদিকে যেমন সাংবাদিকদের অনৈতিকতা ও বিভাজন দূর করতে হবে, অন্যদিকে তেমনি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
কারণ, সাংবাদিকতা দুর্বল হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সত্য, ন্যায়বিচার ও সাধারণ মানুষের অধিকার।