
মোঃ নুরুজ্জামান খোকন
কাউখালী(পিরোজপুর)
পরিবেশ রক্ষা,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ তৈরির লক্ষ্যে মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আল ফুদুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৬০০টি ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
১ ও ২ অক্টোবর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বেতকা-মাহমুদিয়া মাদ্রাসাসহ বেতকা গোয়ালতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য গোয়ালতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মধ্য গোয়ালতা হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং পূর্ব বেতকা দাখিল মাদ্রাসায় বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল আম,মালটা,লেবু, কমলাসহ বিভিন্ন ফলজ প্রজাতির গাছ।
অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল ফুদুল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও আলোর দিশারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব মু:জামিনুল হক জামিল। এ সময় ফাউন্ডেশনের সদস্য বাদল খান,রফিকুল ইসলাম ও বেতকা মাহমুদিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু হানিফ,ভান্ডারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল খালেক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন,একটি চারা শুধু একটি গাছ নয়,এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ছায়া,ফল,অক্সিজেন ও নিরাপদ পরিবেশের প্রতিশ্রুতি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফলজ গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
আল ফুদুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম আবেদী,যিনি মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত,তার উদ্যোগে ফাউন্ডেশনটি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান,ছাত্রকল্যাণমূলক কার্যক্রম,পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা, অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত মানুষের সেবা,বেকারত্ব দূরীকরণে উদ্যোগ এবং বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব,অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধও তৈরি হয়।
পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে একটি সবুজ,সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।