মোঃ নুরুজ্জামান খোকন
(পিরোজপুর)
পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারি বরাদ্দের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ৭৪ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ খাইরুল আলম ফিরোজ। মুক্তিযোদ্ধার বসতঘর পুনঃসংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতনামা এক প্রতারকের বিরুদ্ধে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ খাইরুল আলম ফিরোজ কাউখালী উপজেলার ৩ নম্বর সদর ইউনিয়নের বড়বিরালজুরি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মৃত মনোয়ার হোসেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান,ইতিপূর্বে তাঁর বসতঘর পুনঃসংস্কারের জন্য ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি খাতে ৪২ হাজার টাকা জামানত বাবদ জমা দিতে হবে।
প্রতারক এ সময় কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম উল্লেখ করে বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেন। এমনকি ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি নম্বরও দেন। ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে প্রতারকের দেওয়া নম্বরের সত্যতা যাচাই না করেই তাঁর কাছে ৪২ হাজার টাকা পাঠান বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজ। টাকা লেনদেনের পর তিনি জানতে পারেন,বসতঘর পুনঃসংস্কারের জন্য এমন কোনো সরকারি বরাদ্দ বা অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশনা নেই। তখনই তিনি বুঝতে পারেন,প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তাঁর ৪২ হাজার টাকা খোয়া গেছে।
এ ঘটনায় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে কাউখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রেহেনা আক্তার জানান, কাউখালী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বসতঘর পুনঃসংস্কারের জন্য নতুন কোনো বরাদ্দ আসেনি। যিনি প্রতারিত হয়েছেন,তিনি সঠিক নম্বর যাচাই-বাছাই ও নিশ্চিত না হয়ে প্রতারকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছেন।