
মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় মামলা-হামলার শিকার হয়েও আদর্শ থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মো: রহিজ ব্যাপারি। রাজপথের পরীক্ষিত এই সৈনিক বর্তমানে বেলকুচি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ প্রায় ২২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে জনস্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে তিনি বারবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন। তবুও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে তাকে কেউ এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্যুত করতে পারেনি।
রাজনৈতিক অভিভাবক ও প্রেরণা
রাজনীতির কঠিন ও সংকটময় পথপরিক্রমায় মো: রহিজ ব্যাপারীর ছাতা হয়ে সবসময় পাশে থেকেছেন তার রাজনৈতিক অভিভাবক, বিশিষ্ট জননেতা আমিরুল ইসলাম আলিম। তার আদর্শ ও দিকনির্দেশনাতেই রহিজ ব্যাপারি জনকল্যাণমূলক রাজনীতিতে নিজেকে পুরোপুরি উৎসর্গ করেছেন।
জনগণের কণ্ঠস্বর ও অনুভূতি
ইউনিয়নের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তাদের এই প্রিয় নেতাকে নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখেই এখন তার প্রশংসা শোনা যায়:
* কৃষক বুদ্দু শেখ বলেন,
“রহিজ ভাই সবসময় আমাদের মতো কৃষকদের খোঁজখবর রাখেন। ঝড়-বৃষ্টিতে আমাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য ও অধিকার আদায়ে তিনি সবসময় আমাদের পাশে থাকেন।”
* তাঁত শ্রমিক মোতালেব বলেন, “বেলকুচির তাঁত শিল্পের দুর্দিনে রহিজ ব্যাপারি শ্রমিকদের পক্ষে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। আমরা একজন প্রকৃত জনদরদী নেতাকে আমাদের ওয়ার্ডে দেখতে চাই।”
সবুজ শেখ বলেন, “তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, বিপদের দিনে তিনি আমাদের সত্যিকারের ভাই ও বন্ধু। তার সততা নিয়ে এলাকার কারও মনে কোনো সন্দেহ নেই।”
বয়স্ক মহিলা আছমা বলেন,
“আমাদের মতো বয়স্ক মানুষদের তিনি নিজের মায়ের মতো সম্মান করেন। সরকারি যেকোনো ভাতা বা সহায়তার বিষয়ে তিনি সবসময় আমাদের অগ্রাধিকার দেন।”
বিধবা মহিলা কুলছুম বলেন, “স্বামীর মৃত্যুর পর চরম অসহায়ত্বে যখন দিন কাটছিল, তখন রহিজ ভাই আমাদের খোঁজ নিয়েছেন। তিনি আমাদের বিপদে ছায়ার মতো পাশে থাকেন।”
জনগণের রায়ে বিজয়ী হলে দৌলতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডকে একটি মডেল ও দুর্নীতিমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে মো: রহিজ ব্যাপারি নিচের সুনির্দিষ্ট এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন:
কৃষক ও শ্রমিকের অধিকার: কৃষক, শ্রমিক এবং মেহনতী মানুষের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায় নিশ্চিত করা হবে।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন: এলাকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আধুনিক ও টেকসই রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে।
ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন: এলাকার সকল মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান এবং শ্মশানের সার্বিক উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বচ্ছ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: প্রকৃত দুস্থ, বিধবা, বয়স্ক এবং কৃষকদের মাঝে সরকারি কার্ড বিতরণে কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি হতে দেওয়া হবে না। শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সঠিক মানুষের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নেওয়া হবে।
দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ কিংবা যেকোনো নাগরিক সেবা প্রদানে কোনো ধরনের ঘুষ বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। জনসেবা হবে সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত।
দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত মো: রহিজ ব্যাপারি আজ ৮নং ওয়ার্ডবাসীর আস্থার অন্য নাম। এলাকার অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং একটি আধুনিক, উন্নত ও বৈষম্যহীন ওয়ার্ড গড়তে তিনি সকলের দোয়া, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করছেন।